রাতদিন ওয়েবডেস্ক : টলিউড কি তবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে? গত কয়েক দিন ধরে পরিচালক বনাম টেকনিশিয়ানদের যে সংঘাতের আবহে টালিগঞ্জ থমকে ছিল, তা নিয়ে বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ফেডারেশন এবং টেকনিশিয়ানদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর স্টুডিও পাড়া থেকে বেরোনোর সময় ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন খোদ ‘ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর কথায়, “সব পক্ষকেই নমনীয় হতে হবে, কারণ দিনের শেষে কাজ হওয়াটা জরুরি।”
শুরুটা হয়েছিল এক পরিচালকের কর্মবিরতি এবং ফেডারেশনের নিয়মাবলী নিয়ে বিতর্ক থেকে। যার জেরে টলিউডের অন্দরে শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। একদিকে পরিচালকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে টেকনিশিয়ানদের দাবি দুই পক্ষের এই ঠান্ডা লড়াইয়ে বিপাকে পড়ছিলেন প্রযোজক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরাও। এই সংকটময় পরিস্থিতিতেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ময়দানে নামেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।বুধবার বিকেলের সেই বৈঠকের শেষে প্রসেনজিৎ জানান, দীর্ঘক্ষণ ধরে সকলের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া শোনা হয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা একটা পরিবারের মতো। পরিবারের মধ্যে সমস্যা হলে যেমন কথা বলে মেটাতে হয়, আমরাও ঠিক সেটাই করছি। টেকনিশিয়ানদের কিছু দাবি আছে, আবার কাজের পরিবেশ রক্ষার কিছু বিষয় আছে। আমি আশাবাদী যে খুব দ্রুত শ্যুটিং ফ্লোরে আগের সেই পরিবেশ ফিরে আসবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সিনেমার স্বার্থে ইগো ধরে রাখলে চলবে না। টেকনিশিয়ানরা হলেন সিনেমার মেরুদণ্ড, আবার পরিচালক হলেন সেই জাহাজের ক্যাপ্টেন। তাঁদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি।”সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে বেশ কিছু খসড়া নিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে টেকনিশিয়ানদের কাজের সময়সীমা, পারিশ্রমিক এবং সেটে পরিচালকদের অধিকার নিয়ে নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও ফেডারেশনের তরফ থেকে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রসেনজিতের উপস্থিতি যে বরফ গলাতে সাহায্য করেছে, তা মানছেন স্টুডিও পাড়ার অধিকাংশ মানুষই।টলিউড বর্তমানে বড় বাজেটের একাধিক সিনেমা এবং ওটিটি সিরিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় শ্যুটিং বন্ধ থাকলে কোটি কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে দেব-সহ অন্যান্য তারকাও নিজেদের মতামত দিয়েছেন। তবে বুধবার প্রসেনজিতের এই সক্রিয় ভূমিকা ইন্ডাস্ট্রিকে অনেকটা স্বস্তি দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, বুধবারের এই আলোচনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার থেকেই শ্যুটিং ফ্লোরে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন ধ্বনি নিয়মিতভাবে শোনা যায় কি না।

