রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল হাওয়া অফিস। চৈত্রের ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনের শুরুতে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের প্রভাব বাড়ছে, তবে সেই সঙ্গে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি থাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২১-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকছে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪-২৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যদিও গড় তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে আর্দ্রতার কারণে। আর্দ্রতার হার ৮৯ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছনোর ফলে ঘাম ও অস্বস্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একইসঙ্গে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার জেরে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে গাছপালা ভেঙে পড়া বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, একটি ঘূর্ণাবর্ত বা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে হঠাৎ ঘন মেঘে ঢেকে যেতে পারে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ সহ একাধিক জেলায় এই দুর্যোগের প্রভাব পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সেখানে তাপমাত্রার ওঠানামা তুলনামূলক কম হতে পারে। আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি কমানো যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, চৈত্রের তীব্র গরমের মাঝেই রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এবং আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর দাপট অব্যাহত থাকতে পারে, যা একদিকে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও অন্যদিকে দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

