রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-কে ঘিরে আবারও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে একাধিক মৃত্যুর অভিযোগে, যা নতুন করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট এই হাসপাতালেই এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অভয়া ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসার পর গোটা পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই পরপর নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সেই সময় অভয়ার সহকর্মী চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা জোরদার, দ্রুত বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছিলেন, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল চিকিৎসা পরিষেবা। অভয়ার বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেবেছিলেন জন জাতি কল্যাণ সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কিংশুক সেনগুপ্ত ও তার সংগঠনের সদস্যরা। মানব বন্ধ থেকে গণ স্বাক্ষর এর মাধ্যমে তাদের একটাই দাবি ছিল অভয়ার বিচার। সেই ঘটনার দুবছর রেশ কাটার আগেই আগের পর এক মৃত্যুর ঘটনা আরজি কর হাসপাতালে। সম্প্রতি গভীর রাতে এক রোগীর বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায় আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে। জানা যায় অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই ব্যক্তি লিফটে ওঠার সময় হঠাৎই সেটি বিকল হয়ে যায় এবং তিনি দীর্ঘ সময় ভিতরে আটকে পড়ে থাকেন, অভিযোগ অনুযায়ী সময়মতো উদ্ধার না হওয়ায় এবং লিফটের ভেতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, পরে উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন, এই ঘটনায় পরিবারের দাবি দ্রুত ব্যবস্থা নিলে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল, যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত এক রোগী বিশ্বজিৎ সামন্তকে নাকি অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে এবং পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়াই শৌচাগারে যেতে বাধ্য করা হয়, যার পরেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং টালা থানা-র দ্বারস্থ হয়েছে। এই সময় মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ালে জন জাতি কল্যাণ সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কিংশুক সেনগুপ্ত। মৃত ব্যক্তির ছেলের সাথে টালা থানায় উপস্থিত হন কিংশুক ও তার সংগঠনের সদস্যরা। আগামী দিনেও বিশ্বজিৎ সামন্তের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন কিংশুক। একের পর এক এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় আরজি কর হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিষেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে লিফটের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সিসিটিভি নজরদারি, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগী ও পরিজনদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

