রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর সেই অনিশ্চয়তা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই জন্ম নেয় আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের মতো মহাকাব্যিক লড়াই। শেষ ওভার পর্যন্ত চলল স্নায়ুর যুদ্ধ। ডেভিড মিলারের ব্যাট থেকে আগুনের ফুলকি ছুটল ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে হাসি ফুটল গুজরাট টাইটান্সের শিবিরে। ডেথ ওভারে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর শুরুতে ব্যাটারদের দাপটে পাঞ্জাব কিংসের মুখের গ্রাস কেড়ে নিল শুভমন গিলের দল।টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় গুজরাট।
শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন অধিনায়ক শুভমন গিল এবং ঋদ্ধিমান সাহা। পাওয়ার প্লে-তে পাঞ্জাব বোলারদের শাসন করে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তাঁরা। মাঝের ওভারে সাই সুদর্শনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ দিকে রাহুল তেওটিয়ার ক্যামিও ইনিংস গুজরাটকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। পাঞ্জাবের হয়ে কাগিসো রাবাডা দু’টি উইকেট নিলেও রান আটকানোয় ব্যর্থ হন স্যাম কারেনরা।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পাঞ্জাব কিংস। শিখর ধাওয়ান এবং প্রভসিমরন সিং দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় পাঞ্জাব। কিন্তু ক্রিজে এসেই দৃশ্যপট বদলে দেন ‘কিলার’ মিলার। তাঁর পুরনো দল গুজরাটের বিরুদ্ধেই যেন চেনা ছন্দে ধরা দিলেন তিনি। মাঠের চারদিকে বিশাল সব ছক্কা হাঁকিয়ে একসময় ম্যাচটিকে পাঞ্জাবের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন মিলার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন শশাঙ্ক সিং।জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে পাঞ্জাবের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৫ রান। হাতে উইকেটও ছিল। কিন্তু রশিদ খান এবং মোহিত শর্মার অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হল মিলারদের। বিশেষ করে ডেথ ওভারে মোহিত শর্মার নিখুঁত ইয়র্কার এবং স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো খেলতেই পারলেন না ব্যাটাররা। ১৯তম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় গুজরাট। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৮ রান দরকার থাকলেও, মিলারের উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে যায় পাঞ্জাব।ম্যাচ শেষে গুজরাট অধিনায়ক শুভমন গিল বলেন, “মিলার যখন খেলছিল, তখন আমাদের মনে ভয় ছিল। কিন্তু বোলারদের ওপর বিশ্বাস ছিল যে তারা কামব্যাক করবে।” এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল গুজরাট। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হল পাঞ্জাবকে। মিলারের লড়াই ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে থাকলেও, দলের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারল না।

