রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার রণকৌশলগত সমীকরণে নতুন মোড়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে যখন যুদ্ধকালীন মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই সরাসরি ভিন্ন সুর শোনা গেল ওমানের গলায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেখানে নির্দিষ্ট বলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, সেখানে ওমান প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিল তারা তাদের জলপথ বা আকাশসীমা কোনও সামরিক সংঘাতের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
‘বিরোধিতা ওমানের’ এই সুর ঘিরেই এখন তোলপাড় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।হরমুজ প্রণালী হল বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রাণভোমরা। প্রতিদিন এখান দিয়ে কয়েক লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিককালে ইরান ও পশ্চিমী দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে এই এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চেয়েছিল বেশ কিছু শক্তি। কিন্তু ওমান বরাবরই নিরপেক্ষ থাকার পক্ষপাতী। তারা মনে করে, এই জলপথে বাড়তি সামরিক সক্রিয়তা শান্ত পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।সূত্রের খবর, পশ্চিমী সামরিক জোট এই এলাকায় একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা কৌশলগত ঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছিল। ওমান সরকার মনে করছে, এতে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে। মাস্কাটের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ওমান কোনোভাবেই তার বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে নিজের মাটিকে ব্যবহার করতে দেবে না। মূলত এই ‘বিরোধিতা’ বা ‘Opposition’-এর কারণেই থমকে গিয়েছে পশ্চিমী দুনিয়ার বেশ কিছু পরিকল্পনা।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ওমানের এই অবস্থান আসলে ইরানের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি কৌশল। কারণ, ওমান বরাবরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে। আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে নারাজ। ফলে, পশ্চিমী শক্তির প্রস্তাবকে সরাসরি খারিজ করে ওমান বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের পররাষ্ট্র নীতি তারা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবে, অন্য কেউ নয়।আপাতত ওমানের এই কড়া অবস্থানের পর কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে বিরোধী শিবির। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্যের স্বার্থে ওমান যেমন সবার সহযোগিতা চায়, তেমনই তারা চায় না এই এলাকা যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত হোক। এখন দেখার, ওমানের এই ‘না’ আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নতুন কোনও সমীকরণের জন্ম দেয় কি না।

