রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০০ টন ডিজেল রপ্তানি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের নিুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল রেলের ওয়াগনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। মূলত বাংলাদেশে ডিজেলের চাহিদা পূরণ এবং মজুত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা এবং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশও কিছুটা জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছিল, যা কৃষি ও শিল্প উৎপাদনসহ সাধারণ পরিবহণ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে সেচের মৌসুমে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা থাকে, যা পূরণ করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের এই ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ডিজেল পাঠানোর জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল পথকে ব্যবহার করা হবে, যাতে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্বালানি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ডিপোতৈ পৌঁছে যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে চাহিদা মেটাতে রেলের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাজারে জোগানের ঘাটতি পূরণ করবে এবং কালোবাজারি রুখতে সাহায্য করবে। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও জ্বালানি সহায়তা প্রদান করা হবে। দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারত ও বাংলাদেশের এই অংশীদারিত্ব গত কয়েক বছরে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইতিপূর্বে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এখন জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও এই পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সংকটকালে তারা বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু। এই ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে সক্ষম হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে, ভারতের এই দ্রুত পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

