Type Here to Get Search Results !

Esplanade Road Named : রাধাবিনোদ পালের নামে এসপ্ল্যানেডের রাস্তা; অভিষেকের প্রতিশ্রুতি, হাইকোর্টের অনুমোদন

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার এসপ্ল্যানেড রো (ওয়েস্ট)-এর নাম এখন থেকে বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল সরণি হিসেবে পরিচিত হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে। কলকাতা পুরসভা আগেই রাস্তার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তবে প্রক্রিয়াগত কারণে হাই কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।প্রসঙ্গত, প্রয়াত বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জাপানে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে বিচারপতির পরিবারের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়েছিল, কলকাতায় কোনও একটি রাস্তার নাম বিচারপতির নামে রাখার। 

এই আর্জি অনুযায়ী কলকাতা পুরসভা প্রাথমিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এরপর আদালতের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সফর করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো বহুদলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদের নেপথ্য চিত্র তুলে ধরা। সেই সফরের মধ্যেই তিনি প্রয়াত বিচারপতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং কলকাতায় রাস্তার নামকরণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন।বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল কলকাতার আইনি মহলে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন। বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত বিশেষ কিছু আন্তর্জাতিক মামলা শোনার দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল। 

সেই সময় থেকেই তিনি জাপানে বিশেষভাবে সমাদৃত হন এবং ‘জাপানের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত হন। টোকিও শহরে তাঁর নামাঙ্কিত একটি জাদুঘরও রয়েছে।এখন কলকাতাতেও রাধাবিনোদ পালের নামের রাস্তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধুমাত্র কলকাতার ভৌগোলিক ইতিহাসে নয়, বরং বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহরের মানুষ ও আইনজীবী মহলকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি এটি বিচার ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সর্বশেষ, কলকাতা পুরসভা ও হাই কোর্টের যৌথ উদ্যোগে এই রাস্তার নামকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের নকশা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। 

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad