রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নিজের জীবনের অনেক কথাই তাঁর মনে নেই। কিন্তু কাগজ-কলম হাতে পেলেই অনায়াসে গড়গড় করে লিখে ফেলেন ওষুধের নাম, ডোজ এবং এমনকী চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও। নাকতলার এই ‘ভাইরাল চিকিৎসক’ ডাঃ সৌরভ ঘোষকে ঘিরে সম্প্রতি তোলপাড় সোশাল মিডিয়া।
আর সেই ভাইরাল ভিডিও দেখেই এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালেন শিক্ষক ও সহপাঠীদের একাংশ।কয়েকদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। এলোমেলো চুল, হাফ প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে নিমেষে প্রেসক্রিপশন লিখছেন দৃশ্যটি অবাক করে দেয় নেটদুনিয়াকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম সৌরভ ঘোষ। একসময় নাকতলা এলাকার মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনাও সম্পূর্ণ করেছেন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে।ভিডিওটি দেখেই বিচলিত হন তাঁর স্কুলের শিক্ষকরা। নাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুদীপ্ত সরকার জানান, প্রিয় ছাত্রের এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি ও আরও এক শিক্ষক সৌরভ ঘোষের বাড়িতে যান। পাশাপাশি তাঁর মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁদের উদ্যোগেই এখন সৌরভের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন সৌরভ। এরপর জয়েন্ট এন্ট্রান্সে সফল হয়ে ভর্তি হন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে। ২০০৩ সালে এমবিবিএস সম্পূর্ণ করার পর কিছুদিন চিকিৎসাও করেছিলেন তিনি। তবে পরপর বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সৌরভ। ধীরে ধীরে সমাজ ও স্বাভাবিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি।বর্তমানে বাড়ির নীচতলার একটি ঘরেই থাকেন সৌরভ। স্থানীয়দের সাহায্যেই চলে খাওয়া-দাওয়া। তবু কেউ প্রেসক্রিপশন লিখতে বললে আজও নিখুঁতভাবে লিখে দেন তিনি। রামগড়, বাঘাযতীন এলাকার গলিপথে প্রায়শই দেখা মেলে তাঁর।মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা এবং পরপর প্রিয়জন হারানোর মতো ট্রমা অনেক ক্ষেত্রেই গভীর মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়। সৌরভ ঘোষের ক্ষেত্রেও কীভাবে এই পরিবর্তন এল, তা বিশদভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে আপাতত সকলের আশা চিকিৎসার মাধ্যমে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এই মেধাবী চিকিৎসক।

