রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হিন্দু শাস্ত্রে মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৬ সালের ১৪ই জানুয়ারি, বুধবার পালিত হবে এই পবিত্র তিথি। এই বিশেষ দিনে সূর্যদেব ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন, যাকে আমরা 'উত্তরায়ণ' বলি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই মর্ত্যে গঙ্গাদেবীর আবির্ভাব ঘটেছিল, যার ফলে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের বিশেষ প্রচলন রয়েছে। তবে সূর্য উপাসনা ও গঙ্গাস্নানের পাশাপাশি এই পবিত্র তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করলে ভক্তের জীবনে অভূতপূর্ব সাফল্য এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব।
শাস্ত্র মতে, উত্তরায়ণের এই সন্ধিক্ষণে শিবলিঙ্গে বিশেষ কিছু অর্পণ করলে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে। মকর সংক্রান্তির সকালে স্নান সেরে শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল ও কালো তিল অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তিল দান এবং তিল দিয়ে শিবের পুজো করলে জন্মকুণ্ডলীর গ্রহদোষ খণ্ডন হয় এবং মহাদেব প্রসন্ন হন। এছাড়া, এই দিন মহাদেবকে আখের রস বা মধু দিয়ে অভিষেক করলে আর্থিক অনটন দূর হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। যারা দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই দিন মহাদেবকে বেলপাতা ও সাদা চন্দন অর্পণ করা বিশেষ ফলদায়ক।
মকর সংক্রান্তিতে শিবের আরাধনা করলে কেবল মানসিক শান্তি নয়, বরং চারিত্রিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। পৌষ মাসের এই শেষ দিনে মহাদেবের পুজোয় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় 'অন্নদান' ও 'বস্ত্রদান'কে। শিবলিঙ্গে পুজোর পর গরিব-দুঃখীদের তিল ও গুড় মিশ্রিত মিষ্টান্ন বা খিচুড়ি দান করলে মহাদেব অত্যন্ত প্রীত হন। ভক্তদের বিশ্বাস, উত্তরায়ণের এই শুভ লগ্নে নিষ্ঠাভরে শিবলিঙ্গে এই বিশেষ দ্রব্যগুলো নিবেদন করলে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং সারা বছরের জন্য মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
