রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তেহরান থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে শীঘ্রই একটি বৈঠক হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে কড়া ভাষায় সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকের আগেই পরিস্থিতি অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হতে পারে।
রবিবার স্থানীয় সময় প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে এই দাবি করেন। তাঁর কথায়, “ইরানের নেতারা আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁরা আলোচনায় বসতে চান। একটি বৈঠকের আয়োজনও হচ্ছে।” কিন্তু এর পরেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, ইরানে যেভাবে বিক্ষোভকারীদের দমন করা হচ্ছে, তা আমেরিকার কাছে উদ্বেগজনক। প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের পথও খোলা রাখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছে। কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, কতটা কড়া অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন সে সব বিষয়েই আলোচনা চলছে। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের বাহিনী প্রস্তুত। ইরানের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানের কথা ভাবছি।” হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরান ইস্যুতে আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর সিনিয়র উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেও ধীরে ধীরে তা দেশের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরোধিতায় রূপ নেয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের অপসারণের দাবিতে তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলি উপচে পড়ছে। বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ইরানে ইন্টারনেট চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। স্টারলিঙ্ক পরিষেবার মাধ্যমে ইন্টারনেট সহায়তা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনা চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
