রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্বের সামরিক মানচিত্রের নয়া সমীকরণ সামনে আনল আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সমীক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক সক্ষমতা বিচার করে প্রকাশিত ২০২৬ সালের সূচকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে ভারত।
অন্যদিকে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান শীর্ষ ১০ এর তালিকা থেকে ছিটকে গিয়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও তালিকার শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত কয়েক বছরে চিনের সামরিক আধুনিকীকরণ ড্রাগন বাহিনীকে আমেরিকার অত্যন্ত কাছে নিয়ে এসেছে। তালিকায় রাশিয়ার স্থান দ্বিতীয় হলেও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তাদের সূচকে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিন। মূলত নৌ শক্তি ও সাইবার যুদ্ধের প্রযুক্তিতে চিন এখন বিশ্বকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ০.১০২৩ স্কোর নিয়ে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের অধীনে দেশীয় প্রযুক্তিতে তেজস বিমান বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত এবং মিসাইল প্রযুক্তিতে উন্নতির সুফল এই র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়াও হিমালয় সীমান্তে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতের পদাতিক বাহিনীর প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মহলে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে।
২০২৬ সালের এই রিপোর্টে সবথেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো পাকিস্তানের অবনমন। গত কয়েক বছর ধরে প্রথম দশে থাকলেও এবার তারা ১১তম স্থানে নেমে গিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে ইসলামাবাদ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে যা তাদের সামগ্রিক ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,রাশিয়া, চিন ভারত,দক্ষিণ কোরিয়া। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার জানিয়েছে এই তালিকা তৈরিতে কেবল পারমাণবিক শক্তি নয় বরং ৬০টিরও বেশি মাপকাঠি ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান লজিস্টিক ক্ষমতা প্রাকৃতিক সম্পদ সেনার সংখ্যা এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই আধিপত্য আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়া দিল্লির হাতকে আরও শক্ত করবে।
