রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বালোচিস্তানে পাকিস্তানি সেনার বড়সড় অভিযানে ৯২ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার খবরটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানের সাফল্যের দাবি করা হয়। বালোচিস্তানে রক্তক্ষয়ী লড়াই পাক সেনার অভিযানে ৯২ জঙ্গি খতম, নেপথ্যে বিদেশি হাত পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালোচিস্তানে বড়সড় সাফল্যের দাবি করল দেশটির সেনাবাহিনী।
সেনার দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো ধারাবাহিক অভিযানে ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এই জঙ্গিদের মধ্যে অন্তত তিন জন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল বলে সেনার মিডিয়া উইং ISPR Inter-Services Public Relations জানিয়েছে। অভিযানের মূল অপারেশন হারোফ ২.০ বিগত কয়েকদিন ধরেই বালোচিস্তানে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি BLA তাদের অপারেশন হারোফ এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে ১২টিরও বেশি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে পাক সেনাবাহিনী কোয়েটা, গোয়াদর, মাস্তুং, নুশকি এবং চমন সহ একাধিক এলাকায় বড়সড় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। এই সংঘর্ষে জঙ্গিদের পাশাপাশি ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ১৮ জন সাধারণ নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল অভিযান শেষে পাক সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিস্ফোরক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেনার দাবি এই হামলাগুলোর পরিকল্পনা ও পরিচালনার নির্দেশ এসেছে সরাসরি দেশের বাইরে থেকে। জঙ্গিরা বিদেশে বসে থাকা তাদের মাস্টারমাইন্ডদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিল।
ভারতকে বার্তা পাকিস্তান সেনাবাহিনী বরাবরের মতো এবারও কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই এই হামলার পেছনে ভারত বা ফিতনা আল হিন্দুস্তান এর মদত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ভারতের নাম সরাসরি জড়িয়ে দাবি করা হয়েছে যে, বালোচিস্তানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই বাইরে থেকে এই প্রক্সি যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বালোচিস্তানে জঙ্গিদের সক্ষমতা এবং হামলার ধরন অনেক বেশি আধুনিক হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনে ৯২ জন জঙ্গির মৃত্যুর খবর সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। তবে বালোচ বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে সেনার এই দাবি অতিরঞ্জিত। বালোচিস্তানে এই অস্থিরতা পাকিস্তান সরকারের জন্য নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।

