রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা কলকাতা হাইকোর্টের নজরে এসেছে যেখানে এক বাবা তাঁর নিখোঁজ নাবালিকা মেয়েকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির ফেরে নিজেই বিচারপতির কড়া প্রশ্নের মুখে বা কাঠগড়ায় পড়েন। হাওড়ার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা নাগাদ তাঁর নাবালিকা মেয়েকে কিছু দুষ্কৃতী জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছে।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ওই বাবা পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস Habeas Corpus মামলা দায়ের করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বাবার কাঠগড়ায় ওঠা বিচারপতি যখন মামলাটি শোনেন, তখন পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়, মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ পুলিশি তদন্তে দেখা যায়, বাবা যে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন, তার সাথে বাস্তবের মিল নেই। মেয়েটি স্বেচ্ছায় কারও সাথে গিয়েছে কি না বা পরিবারের সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালতকে বিভ্রান্ত করা, বিচারপতি লক্ষ্য করেন যে, মামলাকারী বাবা আদালতের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন।
ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে কি না, সেই সন্দেহ তৈরি হয়। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে বা কাউকে ফাঁসাতে হাইকোর্টকে ব্যবহার করা বরদাস্ত করা হবে না। মেয়েকে উদ্ধার করতে এসে উল্টে ভুল তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাবা নিজেই আইনি মারপ্যাঁচে এবং আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন, আদালত এই মামলায় পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে মেয়েটির প্রকৃত অবস্থান এবং ঘটনাটি আদেও অপহরণ কি না তা খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে। একই সঙ্গে মামলাকারীকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি প্রমাণিত হয় তিনি আদালতকে বিভ্রান্ত করেছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

