রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের জলে লবণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, যা বিশ্ব পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৬০ বছরে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের উপরিভাগের জলে লবণের ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে, যা সমুদ্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। প্রথাগতভাবে এই অঞ্চলটি তার উচ্চ লবণাক্ততার জন্য পরিচিত ছিল, কারণ প্রখর সূর্যরশ্মির প্রভাবে এখান থেকে জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে নুন থিতিয়ে পড়ে।
তবে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এই লবণের পরিমাণ কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে 'ইন্দো-প্যাসিফিক ফ্রেশওয়াটার পুল' নামক একটি বিশাল মিষ্টি জলের আধারকে, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর থেকে পূর্ব ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবর্তিত বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের কারণে এই মিষ্টি জল এখন দক্ষিণ অভিমুখে প্রবাহিত হয়ে ভারত মহাসাগরের লবণাক্ত অংশে মিশছে। সমুদ্রের জলের এই লবণাক্ততা হ্রাসের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, কারণ জলের ঘনত্ব সরাসরি সমুদ্রস্রোতের গতি ও প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। লবণের পরিমাণ কমলে জলের ঘনত্ব কমে যায়, যা বিশ্বব্যাপী সমুদ্রস্রোতের প্রবাহকে মন্থর বা পরিবর্তিত করে দিতে পারে। এই স্রোতগুলোই মূলত পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরন নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, এমনকি আমাজন অববাহিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলেও বৃষ্টিপাত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের এই চারিত্রিক বদল কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী সংকেত। যদি মিষ্টি জলের এই অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকে, তবে তা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের পাশাপাশি কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা আগামী দিনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

