রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফ ও সিপিএমের মধ্যে আসন সমঝোতার জট দীর্ঘ বৈঠকের পর অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিপিএম রাজ্য দফতরে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নওশাদ সিদ্দ্দিকী, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।দীর্ঘ বৈঠকের পর দু’পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা না করলেও একান্ত আলোচনায় জানা গেছে যে আসন সমঝোতার জট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে সংখ্যাগত বিষয়ে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।
সূত্রের খবর, সিপিএমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাকি বামফ্রন্ট শরিকদের সঙ্গে আলোচনার পর আইএসএফকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।জানা গেছে, নওশাদ প্রায় ৪৫টি আসন দাবী করেছেন, কিন্তু সিপিএম ২৫টির বেশি আসনের কথা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। দুই দলের শীর্ষ নেতাদের কথোপকথন থেকে বোঝা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ওঠানামা হতে পারে। দু’পক্ষই নমনীয় মনোভাব নিয়ে সমঝোতায় বসেছেন, যা আশা বাড়াচ্ছে যে চূড়ান্ত সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব হবে।বৈঠকের পরে রাজ্য সিপিএমের এক শীর্ষ নেতা একান্ত আলাপচারিতায় হালকা রসিকতা করেই মন্তব্য করেন, “হাতি বেরিয়ে গেছে। লেজটুকু বাকি আছে। ওটাও বেরিয়ে যাবে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আসন বিতরণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বড় জট মিটেছে, শুধু কিছু সূক্ষ্ম বিষয় বাকি আছে। সূত্রের আরও খবর, এই সমঝোতার প্রক্রিয়ায় অন্য দলের যেমন মায়াবতীর দলের যোগ খুঁজবেন না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠক দুই দলের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আইএসএফ এবং সিপিএমের মধ্যে সমঝোতা রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত নওশাদ ও সিপিএমের নেতারা যদি নমনীয়তা বজায় রাখেন, তবে আসন বণ্টন দ্রুত চূড়ান্ত করতে সক্ষম হবেন।এই বৈঠক থেকে একটি বার্তাও স্পষ্ট রাজনৈতিক জটিলতা থাকলেও, উভয় পক্ষই সমঝোতার জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখাচ্ছে। শিগগিরই বাকি বিষয়গুলোও মিটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে।

