রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সুস্থ জীবন এবং ওজন কমানোর লড়াইয়ে বর্তমানে ডায়েট চার্টে আমূল পরিবর্তন এসেছে, যেখানে চিরাচরিত সাদা ভাতের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ওটস। ওজন কমানোর নেশায় অনেকেই এখন ভাতের বদলে ওটসের স্মুদি বা ওটস খিচুড়িকে প্রধান খাবার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, তবে এই পরিবর্তনের সুফল এবং কার্যকারিতা নিয়ে পুষ্টিবিদদের মধ্যে বিশেষ বিশ্লেষণ রয়েছে। সাধারণত ১০০ গ্রাম চালে যে পরিমাণ ক্যালোরি থাকে, সমপরিমাণ ওটসেও ক্যালোরির মাত্রা প্রায় কাছাকাছি, কিন্তু মূল পার্থক্য গড়ে দেয় এদের তন্তু বা ফাইবারের উপস্থিতি।
সাদা ভাতে ফাইবারের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হলেও ওটসে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। ভাতের খিচুড়ি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই যেখানে পুনরায় খিদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ওটসের খিচুড়ি পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভর্তি রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে বারংবার খাওয়ার প্রবণতা বা বিঞ্জ ইটিং কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এ ছাড়া, ওটসে থাকা প্রোটিন পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং এর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কেবল চালের বদলে ওটস খেলেই ওজন কমবে না; এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল ও মরসুমি সবজি যোগ করা জরুরি, কারণ সবজি ও ডালের সংমিশ্রণ এই খাবারটিকে একটি সম্পূর্ণ সুষম আহারে পরিণত করে। অন্যদিকে, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা যাদের দ্রুত শক্তির প্রয়োজন, তাদের জন্য চালের খিচুড়ি সহজপাচ্য হওয়ায় বেশি কার্যকর হতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, ওটস খিচুড়ি ওজন কমানোর জন্য একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে তার উচ্চ ফাইবার ও পুষ্টিগুণের কারণে, কিন্তু এটি জাদুর মতো কাজ করবে না যদি না সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ এবং জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আনা যায় তাই ভাতের বদলে ওটস বেছে নেওয়া যতটা না স্বাদের পরিবর্তন, তার চেয়েও বেশি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সচেতন পদক্ষেপ।

