রাতদিন ওয়েবডেস্ক : গঙ্গাসাগরের শান্ত পরিবেশে সাতসকালে বন্দুকবাজের হামলায় এক বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা এলাকার শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রাতঃভ্রমণ বা ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ত্রিলোকেশ ঢালি। সকাল আটটা নাগাদ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুই বাইক আরোহী আততায়ী তাঁর গতিরোধ করে এবং খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলির আঘাতে ত্রিলোকেশবাবুর বুকের পাঁজর এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক হামলায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে পথচারী ও স্থানীয়রা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা দ্রুত বাইক চালিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় মানুষই ত্রিলোকেশ ঢালিকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগর জুড়ে তৈরি হয়েছে থমথমে পরিস্থিতি। ঘটনার খবর পেয়েই গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু করে। যদিও এখন পর্যন্ত এই হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট নয়, তবে আহত বিজেপি নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। তাঁর পুত্র ত্রিদীপ ঢালি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর বাবার প্রার্থী হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং সেই রাজনৈতিক পথ নিষ্কণ্টক করতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই খুনের চেষ্টা চালিয়েছে।
ত্রিদীপের মতে, অতীতে সাগরের মাটিতে এই ধরনের দুষ্কৃতী সংস্কৃতি ছিল না, কিন্তু বর্তমানে বহিরাগত ও স্থানীয় দুষ্কৃতীদের দাপট লাগামহীনভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জের হতে পারে। পুলিশ এই মুহূর্তে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। এটি নেহাতই কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাগরের মতো তীর্থক্ষেত্রে সকালবেলা এমন গুলিচালনার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের হামলা বিরোধী শিবিরের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার কৌশল কি না, সেই বিতর্কও এখন তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ যদি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না করে তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। সব মিলিয়ে, এক শান্ত সকাল নিমেষেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এবং গঙ্গাসাগরের শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বর্তমানে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিছক ক্ষমতার লড়াই নাকি টিকিট পাওয়ার রেষারেষি ঠিক কী কারণে ত্রিলোকেশ ঢালির ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা হলো, পুলিশি তদন্তের পরেই তার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তবে এই ঘটনা বর্তমান বঙ্গ রাজনীতির অস্থিরতাকে আবারও জনসমক্ষে তুলে ধরল।

