Type Here to Get Search Results !

Kolkata Municipal Audit : শুদ্ধিকরণের পথে কলকাতা পুরসভা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে স্বচ্ছতা ফেরাতে ময়দানে সিএজি

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতা পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং নাগরিক পরিষেবার মান যাচাই করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি CAG। এই প্রথমবার পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের এই বিশেষ বিভাগটি কেন্দ্রীয় অডিটরের স্ক্যানারে আসতে চলেছে। গত ২ মার্চ কেন্দ্রীয় অডিটরের পক্ষ থেকে পুর কমিশনারকে তিন পাতার একটি চিঠি পাঠিয়ে এই অডিটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়ার সুবিধার্থে স্বাস্থ্য দপ্তরের পূর্ণ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। 

এই অডিটটি মূলত এপ্রিল ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের যাবতীয় নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখবে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে পরিচালিত হলেও, পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নতুন শংসাপত্র সংগ্রহ বা পুরনো শংসাপত্র সংশোধন করতে গিয়ে নাগরিকরা যে ধরনের হেনস্থার শিকার হন, তা দূর করতেই এই কড়া পদক্ষেপ। অভিযোগ উঠেছে যে, পুর কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছ পরিষেবার দাবি করলেও বাস্তবে শংসাপত্র পেতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ঘুষের লেনদেন বা দুর্নীতির ছায়া দেখা যায়। এই ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক গরমিলের আঁচ পেয়েই কেন্দ্রীয় অডিট বিভাগ পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামছে। দুইজন কেন্দ্রীয় অডিট অফিসারের একটি বিশেষ দল আগামী কয়েক মাস ধরে পুরসভার ডিজিটাল নথি ও ফিজিক্যাল রেকর্ডগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবেন। এই অডিটের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং তা মূলত কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেবে। শংসাপত্র প্রদান, তথ্য সংশোধন এবং ডিজিটাল ইন্টারফেস বা পোর্টাল ইন্টিগ্রেশনের মতো প্রযুক্তিগত বিষয়গুলিও এই অডিটের অন্তর্ভুক্ত। সিএজি খতিয়ে দেখবে যে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ১৯৬৯ এবং পশ্চিমবঙ্গ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধি ২০০০ এর নিয়মাবলি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না। 

এছাড়া, পরিষেবার গুণমান, সময়ানুবর্তিতা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দপ্তরটি কতটা সক্রিয়, তার একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করা হবে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ১৫০ থেকে ৫০০টি শংসাপত্র প্রদান করে থাকে; এই প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁকফোকর বা অস্বচ্ছতা আছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি, এসআইআর SIR সংক্রান্ত নথিপত্র দেওয়ার জন্য যে অতিরিক্ত কেন্দ্রগুলি খোলা হয়েছে, সেগুলির কার্যক্রমও অডিটের আওতায় আসবে। গত তিন বছরে শংসাপত্র প্রদানের বিনিময়ে সংগৃহীত অর্থের হিসাব এবং সেই সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা যাচাই করা হবে। সিএজি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই বিপুল পরিমাণ তথ্য ডিজিটাল বা এক্সেল ফরম্যাটে পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে। মূলত নাগরিক হয়রানি বন্ধ করা, দুর্নীতির মূল উৎপাটন এবং সরকারি পোর্টালে তথ্যের সঠিক মেলবন্ধন নিশ্চিত করাই এই উচ্চপর্যায়ের অডিটের প্রধান লক্ষ্য। পুরসভার অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই অডিট রিপোর্টটি আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আনতে পারে। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad