রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে মোদী মন্ত্রিসভা দুটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের রেল যোগাযোগ এবং কলকাতার বন্দর এলাকার প্রাচীন বাস্কুল সেতু সংস্কারের জন্য বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
রেলের মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অধীনে সাঁইথিয়া থেকে পাকুর এবং সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের জন্য মোট ৪ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা খরচ করা হবে। প্রায় ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনটি দুই রাজ্যের পাঁচটি জেলাকে সংযুক্ত করবে এবং এর ফলে প্রায় ৫,৬৫২টি গ্রামীণ এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা বাড়ানো। রেলের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন লাইনের ফলে বছরে অতিরিক্ত ৩.১ কোটি টন পণ্য, বিশেষ করে খনিজ পদার্থ পরিবহন করা সম্ভব হবে। এছাড়া শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ থেকে শুরু করে ধাদিকা বনাঞ্চলের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো পর্যটকদের জন্য অনেক সহজ হয়ে উঠবে। আগামী পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের প্রায় ৬০ বছরের পুরনো বাস্কুল সেতুটির আধুনিকীকরণের জন্য ১১৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী। এই অর্থের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৪১ কোটি টাকা আসবে কেন্দ্রীয় ‘সাগরমালা’ প্রকল্প থেকে। এই সংস্কারের ফলে সেতুর যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হবে, যা সেতুটিকে আরও নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে। এর ফলে বন্দর এলাকায় যান চলাচল যেমন মসৃণ হবে, তেমনই বন্দরের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। মূলত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে কেন্দ্রের এই জোড়া পদক্ষেপ রাজ্যের অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

