Type Here to Get Search Results !

Bengal Scheme Scam : মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পরেও শূন্য পকেট 'যুব সাথী' ও 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' নিয়ে উৎকণ্ঠায় উপভোক্তারা

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘যুবশ্রী’  এবং ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থ প্রদানকে কেন্দ্র করে উপভোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিও শুভেচ্ছা-বার্তা এবং টাকা ছাড়ার মেসেজ মোবাইলে পৌঁছালেও, বাস্তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ না ঢোকায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে মেদিনীপুর থেকে রায়গঞ্জ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। মেদিনীপুর শহরের সুব্রত চক্রবর্তী বা হুগলির শেখ মুজফফর হোসেনের মতো বহু আবেদনকারী জানিয়েছেন যে, সরকারি বার্তা পাওয়ার পর বারবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেও তাঁরা অর্থের দেখা পাননি। 

উত্তর দিনাজপুরের অংশু সাহা বা পূর্ব বর্ধমানের নারায়ণ চক্রবর্তীদের মতো উপভোক্তারা অভিযোগ তুলেছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে এই বিলম্ব বা ভুল বার্তা তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত নথিপত্র যাচাই এবং পোর্টাল আপলোডের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই এই বিপত্তি। বিশেষ করে যাঁরা সরাসরি ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্য অনলাইনে তোলার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। নদীয়া জেলার তথ্য অনুযায়ী, জমা পড়া কয়েক লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র একটি ভগ্নাংশ পোর্টালে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ব্লক অফিসগুলিতে কাজের চাপ বেশি থাকায় পঞ্চায়েত দপ্তরগুলির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও মালদহ বা মুর্শিদাবাদের অনেক উপভোক্তা সময়মতো টাকা পেয়ে কম্পিউটার কোর্সের ফি বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিটিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং তথ্যের গরমিল এই সমস্যার অন্য একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ঝাড়গ্রামের রাজীব মণ্ডলের মতো অনেক আবেদনকারী দেখছেন যে, সরকারি বার্তায় উল্লিখিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শেষ চারটি সংখ্যার সঙ্গে তাঁদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মিল নেই। জেলা প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয়ভাবে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ ট্রানজ্যাকশন সফল হয়নি এবং অ্যাকাউন্টের ডিজিটে ভুল থেকে গিয়েছে। বর্তমানে সেগুলি সংশোধনের কাজ চলছে। এছাড়া যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, অনেক আবেদনকারী মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ বা বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ইতিমধ্যেই অন্য প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, যার ফলে তাঁদের আবেদন আটকে গিয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও হাওড়া, বর্ধমান বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার অনেক মহিলা মার্চ মাসের টাকা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জেলাশাসকরা অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখে দ্রুত টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শুভেচ্ছা-বার্তা পৌঁছালেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে টাকা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমন্বয় ও তথ্যগত নির্ভুলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad