রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপি— দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র সূচনা করেছিলেন। সেই কর্মসূচির মাধ্যমে গোটা রাজ্য জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা। উদ্দেশ্য একটাই— আসন্ন নির্বাচনে বাংলায় সরকার গঠন। বিজেপির দাবি, এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের কাছে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, বাস্তবে এই কর্মসূচি মানুষের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার মথুরাপুরে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে মাঠ থেকে কয়েকদিন আগে অমিত শাহ তাঁর কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, সেই জায়গাতেই সভা করেন তৃণমূল নেতা। সভায় বিপুল জনসমাগম দেখে উচ্ছ্বসিত অভিষেক বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন।তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমের চিত্রগ্রাহক বন্ধুদের বলব, আমাকে না দেখিয়ে কয়েক মিনিট এই জনতার ভিড়টা দেখান। তাহলেই বোঝা যাবে মানুষের সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।” এরপর তিনি বলেন, “আজ যে ভিড় আপনারা দেখছেন, এটা শুধু ট্রেলার। এখন ট্রেলার দেখালাম, মে মাসে সিনেমা দেখাব।”অভিষেকের দাবি, বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা বাস্তবে মানুষের আগ্রহ অর্জন করতে পারেনি। তিনি বলেন, দিল্লি থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বাংলায় এসে প্রচার করলেও সাধারণ মানুষের সাড়া খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় সভা ফাঁকা থাকছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, “গতবার বিজেপি
‘দুইশো পার’ স্লোগান দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এবার সেই সংখ্যাও কমবে। আমরা বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনব।”অভিষেক আরও বলেন, বাংলার মানুষ বারবার বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও বিজেপি নানা উপায়ে বাংলাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে। এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যতদিন মানুষের ওপর এই অত্যাচার চলবে, ততদিন তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় থাকবে। মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মতলায় দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ধরনা কর্মসূচি শুরু করেছেন এবং সেই আন্দোলনও মানুষের স্বার্থে।সভা থেকে অভিষেক নারী শক্তির কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বাংলার মহিলারা তৃণমূলের পাশে রয়েছেন এবং সেই শক্তিই আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি হবে। তাঁর কথায়, “নারীশক্তি আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আর নারীশক্তি পাশে থাকলে আমাদের পরাজিত করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।”
