Type Here to Get Search Results !

Cricket Update : এক সপ্তাহের বেশি ভারতে আটকে থাকার পর দেশে ফিরছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারতে আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরতে চলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর এবার স্বস্তির খবর মিলেছে ক্যারিবিয়ান শিবিরে। সূত্রের খবর, সোমবারই কলকাতা থেকে নিজের দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন দলের কোচ ড্যারেন স্যামি। অন্যদিকে দলের বাকি ক্রিকেটাররাও শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বেশিরভাগ সদস্য সম্ভবত মঙ্গলবার দেশে ফেরার বিমানে উঠতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় অপেক্ষা করার পর এই খবর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি এনে দিয়েছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে।এই পরিস্থিতির মূল কারণ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বহু দেশের যাত্রীদের মতোই ক্রিকেটারদেরও দেশে ফিরতে সমস্যা তৈরি হয়। বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসা বেশ কয়েকটি দলের ক্রিকেটারদের এই কারণেই নির্ধারিত সময়ের পরেও দেশে ফিরতে বিলম্ব হয়েছে।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। গত ১ মার্চ সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে পরাজয়ের পরই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় ক্যারিবিয়ান দলের। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল কলকাতাতেই। ৪ মার্চ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় প্রোটিয়ারা।কিন্তু তার পর থেকেই দুই দলের ক্রিকেটারদের দেশে ফেরার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিমান চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তাঁরা কলকাতাতেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। এই ঘটনাকে ঘিরে পরে বিতর্কও শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে।বিশেষ করে ইংল্যান্ড দলের দ্রুত দেশে ফেরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠে। আকাশপথ আংশিকভাবে খুলে যাওয়ার পর দেখা যায়, প্রথমেই ভারত থেকে লন্ডনের বিমানে উঠতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। অথচ তার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা তখনও ভারতে আটকে ছিলেন।এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সব দলকে সমানভাবে দেখা উচিত।

কোনও দেশের ক্রিকেট বোর্ড শক্তিশালী বলে তাদের ক্রিকেটারদের আগে দেশে ফেরানোর সুযোগ দেওয়া ঠিক নয়। তাঁর মন্তব্যে অনেকেই মনে করেন, শক্তিশালী বোর্ড থাকার কারণেই ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আগে দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন।তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যে সময়ে যেদিকে বিমান পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী বিভিন্ন দলের ক্রিকেটারদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।তাঁর বক্তব্য, ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটাররা কেবল সুবিধাজনক বিমান সংযোগ পাওয়ার কারণেই আগে দেশে ফিরতে পেরেছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিমান সংযোগের অপেক্ষা করতে হয়েছে।তবে অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। দীর্ঘদিন কলকাতায় থাকার পর এবার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। ফলে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যে অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁরা ছিলেন, তা থেকে অবশেষে মুক্তি মিলতে চলেছে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad