রাতদিন ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং তামিলনাড়ুর আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি নিজেদের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওড়িশায় রাজ্যসভার চারটি আসনের মধ্যে বিজেপির হাতে বর্তমানে দুটি আসন পাওয়ার মতো বিধায়ক থাকলেও তারা তৃতীয় আসনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এই কৌশল রুখতে নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং কংগ্রেসের মধ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসের তৎপরতায় কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বিজেডির প্রার্থী চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে সমর্থন জানাবে, যাতে বিজেপির ঘোড়া কেনাবেচার সুযোগ বন্ধ হয়। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়ি জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারের বয়স এবং তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনার মাঝেই উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং কংগ্রেস নিজেদের দাবি জোরালো করছে। আদিত্য ঠাকরে যেমন দলের বিধায়ক সংখ্যার জোরে আসন দাবি করছেন, তেমনই কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাটও রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের নেতৃত্বে বিজেপি মহারাষ্ট্রের সাতটি আসনের সবকটিই দখলের নীল নকশা তৈরি করছে বলে বিরোধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড পওয়ারকে সমর্থন দিতে রাজি হলেও সেখানে অজিত পওয়ারের গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে এনডিএ-তে যোগ না দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সমান্তরালভাবে তামিলনাড়ুতেও রাজ্যসভার ছয়টি আসন নিয়ে দর কষাকষি চলছে শাসক দল ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মধ্যে। এম কে স্ট্যালিন কংগ্রেসকে একটি আসন ছাড়তে রাজি হলেও বিনিময়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র শর্ত মেনে কম আসনে লড়ার জন্য কংগ্রেসকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভা নির্বাচন কেবল আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটের শক্তি পরীক্ষার এক বড় মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

