রাতদিন ওয়েবডেস্ক : এসআইআর ইস্যুতে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা কর্মসূচি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত তিনদিন ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন এখন রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার ধরনামঞ্চ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, যতক্ষণ না সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন এবং পথে নেমে লড়াই চালিয়ে যাওয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই ততদিন চলবে, যতদিন না এই ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”তবে একইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় মানুষের জন্য লড়াই করতে চান এবং মানুষের পাশে থাকতে চান। কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে তাঁর সুস্থ থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি নেত্রীকে অনুরোধ করেন, “আপনি রাস্তায় থাকতে চান, মানুষের জন্য লড়াই করতে চান— সেটা আমরা জানি। কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে আপনার শরীরের কথাও ভাবতে হবে। তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন আছে। তারা এই লড়াই বুঝে নেবে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”অভিষেকের এই বক্তব্য থেকেই রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরনা কর্মসূচি তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।
তবে আন্দোলন থামবে না— সেই বার্তাও একইসঙ্গে দিয়েছেন তিনি।অভিষেকের এই মন্তব্যের পরপরই দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে জমায়েতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল যুব কংগ্রেসকে। সংগঠনের সমস্ত কর্মী এবং সমর্থকদের সকাল ১০টার মধ্যে সেখানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন ছাত্র এবং যুব সংগঠনের নেতারা সেখানে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনা শুধুমাত্র ভোটাধিকার রক্ষার দাবি নয়, এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বার্তা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার নানা চেষ্টা চলছে এবং তার বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন।এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সামনে থেকে লড়াই করেছেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী নেত্রী হিসেবেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তিনি বারবার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন।তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি কখনওই শুধু প্রতীকী নয়। তাঁর প্রতিটি আন্দোলনের লক্ষ্য থাকে মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখা। আর সেই কারণেই ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেও আবারও একই বার্তা উঠে এসেছে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে, যতদিন না সেই অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
