রাতদিন ওয়েবডেস্ক : জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় দীর্ঘদিনের নিরলস অভিযানের পর এক বড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী, যেখানে খতম হয়েছে জইশ-ই-মোহাম্মদ গোষ্ঠীর কুখ্যাত পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লাহ। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই সইফুল্লাহ কেবল একজন সাধারণ জঙ্গি ছিল না, বরং সে ছিল অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং ছদ্মবেশে পারদর্শী এক ছায়ামানব যে গত কয়েক বছরে অন্তত ২০ বার ভারতীয় সেনাদের চোখের সামনে দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। কিস্তওয়ারের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন অরণ্যকে ঢাল করে সে তার নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছিল এবং একের পর এক নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা করছিল।
মূলত পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরে অশান্তি ছড়ানো এবং সেনার ওপর অতর্কিত হামলার লক্ষ্য ছিল তার। সইফুল্লাহর এই পালিয়ে যাওয়ার কৌশল এতটাই নিখুঁত ছিল যে, অনেক সময় সে স্থানীয়দের পোশাকে মিশে যেত কিংবা পাহাড়ের এমন গুহায় আশ্রয় নিত যা খুঁজে পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি গোপন সূত্রে খবর আসে যে কিস্তওয়ারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সে আত্মগোপন করে আছে। খবর পাওয়ামাত্রই রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষ। শুরুতে সইফুল্লাহ সেনার ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে পালানোর শেষ চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু এবার নিরাপত্তা বাহিনীর রণকৌশল ছিল অনেক বেশি আঁটসাঁট। দীর্ঘক্ষণ গুলি বিনিময়ের পর অবশেষে সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় এই মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। তার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গ্রেনেড এবং বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে সে বড় ধরনের কোনো নাশকতার ছক কষছিল। এই সাফল্যে উপত্যকায় জঙ্গি দমনে সেনা ও পুলিশের মনোবল অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ সইফুল্লাহর মতো অভিজ্ঞ এবং ধূর্ত জঙ্গিকে নিকেশ করা মানে জইশের স্থানীয় পরিকাঠামোয় এক বড়সড় আঘাত হানা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, কারণ তার উপস্থিতিতে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমান্তে ও উপত্যকার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট জঙ্গিদের খুঁজে বের করার অভিযান আরও জোরালো করা হবে এবং কোনোভাবেই দেশের নিরাপত্তায় আপস করা হবে না। এই নিকেশ অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা আবারও প্রমাণ করল যে, অপরাধী যতবারই ফাঁকি দিক না কেন, শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের বিচার এড়ানো অসম্ভব এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বদা সজাগ।

