রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে আসছে রুপোর আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রখ্যাত সংস্থা ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা-র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট মাইকেল উইমারের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা রিপোর্ট বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে রুপোর দাম এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে যা সাধারণ মধ্যবিত্তের কল্পনারও অতীত। বিশ্ব বাজারে ডলারের তুলনায় টাকার দামের ক্রমাগত পতন এবং বৈশ্বিক চাহিদার নিরিখে যোগানের তীব্র ঘাটতি এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে কলকাতায় রুপোর বাজারদর ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রায় এটি যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। মাইকেল উইমারের মতে, ২০২৬ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপোর দাম ১৩৫ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০৯ ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদি সত্যিই আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ৩০৯ ডলার প্রতি আউন্স স্পর্শ করে, তবে ভারতীয় মুদ্রায় এর হিসাব হবে অত্যন্ত চমকপ্রদ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি আউন্স রুপোর দাম দাঁড়াবে প্রায় ২৬,২৬৫ টাকা। যেহেতু ১ কেজিতে প্রায় ৩২.১৫ আউন্স রুপো থাকে, তাই প্রতি কেজির মূল মূল্যই দাঁড়াবে ৮,৪৪,৫০০ টাকার কাছাকাছি। এর সঙ্গে যোগ হবে আমদানি শুল্ক প্রায় ১৫ শতাংশ, জিএসটি ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রমিয়াম ও মেকিং চার্জ। এই সমস্ত কর ও আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত করলে দেখা যাচ্ছে যে, ২০২৬ সালে ভারতের বাজারে এক কেজি রুপোর দাম অনায়াসেই ১০,০৫,০০০ টাকা বা ১০ লক্ষ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করে যাবে। এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শিল্পের চাহিদাও একটি বড় কারণ। আধুনিক বিশ্বে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে দ্রুতগতিতে।
বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল তৈরিতে রুপোর ব্যবহার অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে রুপোর এই বর্ধিত চাহিদা এবং খনি থেকে উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা বাজারে এক বিশাল বৈষম্য তৈরি করছে। বর্তমানে যেখানে এক কেজি রুপোর দাম আড়াই লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে এবং মাঝেমধ্যেই কিছু পতন দেখা যাচ্ছে, সেখানে বিশেষজ্ঞদের এই 'বুলিশ' বা চড়া দামের পূর্বাভাস ভবিষ্যতে সোনা ও রুপোর বাজারকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। রিপোর্টে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সাধারণ পরিস্থিতিতে দাম হতে পারে কেজি প্রতি ৪.৪০ লক্ষ টাকা, মাঝারি বৃদ্ধিতে ৬.৫০ লক্ষ টাকা এবং চরম ঊর্ধ্বমুখী বাজারে তা ১০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যদি এই ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে রুপোর গয়না বা বিনিয়োগ কেবল স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে এবং এটি সোনার মতোই এক অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে। তাই বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এখন থেকেই রুপোকে একটি শক্তিশালী সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, যা আগামী দুই বছরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

