রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস ফের দুর্ঘটনার মুখে। বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণের সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে যায় এক আসনবিশিষ্ট তেজস বিমান। দুমড়ে-মুচড়ে যায় তার কাঠামো। তবে বিপদের আঁচ পেয়ে সময়মতো বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন পাইলট। ফলে প্রাণহানির কোনও খবর নেই। যদিও ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে, বায়ুসেনার তালিকা থেকে আরও একটি তেজস কার্যত বাদ পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চলতি মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেরে ঘাঁটিতে ফিরছিল যুদ্ধবিমানটি।
অবতরণের সময় আচমকাই ব্রেক কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় রানওয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি পাইলট। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝেই জরুরি নির্গমন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ককপিট থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি রানওয়ে পেরিয়ে ছিটকে দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ভারতীয় বায়ুসেনা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথমে এই দুর্ঘটনার কথা জানায়নি। পরে সংবাদমাধ্যম সূত্রে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দুর্ঘটনার পরই তেজস বহরের নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হয়েছে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০টি এক আসনবিশিষ্ট তেজস বিমান আপাতত উড়ান থেকে বিরত রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষজ্ঞদের সবুজ সংকেত মিললেই সেগুলিকে ফের পরিষেবায় আনা হবে। সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই বিমানগুলির ব্যর্থতার হার তুলনামূলক ভাবে কম বলেই এতদিন দাবি করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ব্রেক বিকল হওয়ার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেডকে ৮৩টি তেজস তৈরির বরাত দেয়। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার সেই চুক্তির পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির নতুন বরাত দেওয়া হয়, যার মূল্য প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহে বিলম্ব এবং ইঞ্জিন জোগান সংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে নির্মাতা সংস্থার বিরুদ্ধে। এই নিয়ে তেজসের তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা ঘটল। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রাজস্থানের জয়সলমেরের কাছে একটি তেজস ভেঙে পড়ে। সে বারও পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। পরবর্তী দুর্ঘটনা ঘটে দুবাইয়ে একটি বিমান প্রদর্শনী চলাকালীন। সে ঘটনায় প্রাণ হারান বায়ুসেনার উইং কমান্ডার নমন স্যাল। সাম্প্রতিক ৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সেই উদ্বেগের তালিকায় নতুন সংযোজন। তেজস ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অন্যতম প্রতীক। ফলে পরপর দুর্ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত প্রশ্নই তুলছে না, সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। আপাতত তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে বায়ুসেনা। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।

