রাতদিন ওয়েবডেস্ক : তিন প্রধানের হয়ে খেলেছেন। আবার গোলও দিয়েছেন তিন প্রধানকেই। বাংলার ফুটবল দুনিয়ায় একসময় যাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে সমর্থকরা, সেই প্রাক্তন স্ট্রাইকার দীপেন্দু বিশ্বাস ফের খবরের শিরোনামে। তবে এবার খেলার মাঠে নয়, ভোটের ময়দানে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরলেন। আর সেই ঘরওয়াপসিতেই চমক রাজনৈতিক মহলে। খেলার ময়দান থেকে রাজনীতির ময়দানে তাঁর যাত্রা নতুন নয়। তবু এবারের ফেরা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ভোটের আগে এই যোগদান কি কেবল প্রতীকী? নাকি টিকিটের ইঙ্গিত? এমন প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার প্রতীক উরের দলবদলের পর রবিবার দীপেন্দুর তৃণমূলে ফেরা সেই রেশ আরও জোরালো করল। রবিবার তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে দীপেন্দু বলেন, “আমি তো ঘরেই ছিলাম, এটা শুধু আনুষ্ঠানিক ফেরা। মমতা ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি এবং বসিরহাট জেলার নেতৃত্বকে ধন্যবাদ।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই প্রত্যাবর্তনকে তিনি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই মনে করছেন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ভোটের মুখে এই যোগদান কি প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত? সরাসরি জবাবে দীপেন্দু বলেন, “এটা এখনই বলতে পারব না। প্রথমবার ভোটে লড়েছি, হেরেছি। দ্বিতীয়বার জিতেছি। ২০১৬ থেকে ২০২১ তৃণমূল বসিরহাটে প্রচুর কাজ করেছে। এখন ভোট নিয়ে কিছু বলব না। দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই পালন করব।” দলের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তাও হয়েছে। বসিরহাট জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। “আমি তো এখানকার প্রাক্তন বিধায়ক। এলাকা আমার চেনা। আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে দল, সেই ভাবেই কাজ করব,” বলেন দীপেন্দু। বসিরহাটের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর দাবি, “দলের অবস্থা খুব ভাল। বসিরহাটের সাতটি আসনই এবারও তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে।”
এমন মন্তব্যে স্পষ্ট, ঘরে ফিরে তিনি সংগঠনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। দীপেন্দু বিশ্বাসের রাজনৈতিক পথচলা কম চড়াই-উতরাই দেখেনি। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে উপনির্বাচনে লড়েছিলেন তিনি। সে বার পরাজিত হন। তবে ২০১৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। পরে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদল করেন। যদিও গেরুয়া শিবিরে তাঁর অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র এক বছরের মধ্যে পদ্ম শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে বসিরহাটের মতো সংবেদনশীল এলাকায় তাঁর প্রভাব কতটা কাজে লাগাতে পারে শাসক দল, সেটাই এখন দেখার। খেলার মাঠে গোল করার দক্ষতা দিয়েই একসময় পরিচিতি পেয়েছিলেন দীপেন্দু। এখন প্রশ্ন, ভোটের মাঠেও কি সেই দক্ষতার পুনরাবৃত্তি হবে? আপাতত তিনি বলছেন, দায়িত্বই মুখ্য। তবে রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা থামছে না এই আনুষ্ঠানিক ফেরা কি বড় কোনও ঘোষণার পূর্বাভাস? সামনে নির্বাচন, আর সেই প্রেক্ষিতেই দীপেন্দু বিশ্বাসের ঘরওয়াপসি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।

