Type Here to Get Search Results !

WiFi Alert : বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি, সামান্য ভুলেই বড় বিপদের আশঙ্কা

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাড়ির বাইরে সময় কাটাতে গেলে এখন প্রায় সবারই ভরসা বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই। ক্যাফে, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা শপিং মল সর্বত্রই ফ্রি ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করছেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু এই সুবিধাই অনেক সময়ে ডেকে আনতে পারে বিপদ। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, সামান্য অসাবধানতায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে।বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই নতুন কৌশলে ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। বিশেষ করে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। 

অনেক সময় দেখা যায়, আসল নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো নাম তৈরি করা হয়। যাতে ব্যবহারকারীদের সন্দেহ না হয় এবং সহজেই তারা সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে পড়েন।সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও নেটওয়ার্কে ঢুকতেই যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক লগইন পেজে পাঠানো হয়, তা হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় তথ্য বা অদ্ভুত অনুমতি (পারমিশন) চাওয়া হয়। এগুলি প্রতারণার লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের গতি অস্বাভাবিক রকম কম থাকলেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ আক্রমণের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর ডেটা নজরদারি করতে পারে।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল, মোবাইল বা ল্যাপটপের সেটিংসে ‘অটোমেটিক কানেক্ট’ অপশন বন্ধ রাখা। অনেক সময় ডিভাইস নিজে থেকেই পরিচিত বা খোলা নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যায়। এতে ব্যবহারকারী টের পাওয়ার আগেই ভুয়ো নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপিত হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে ম্যানুয়ালি নেটওয়ার্ক বেছে নেওয়াই নিরাপদ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলি নেপথ্যে সক্রিয় থেকে ডেটা আদানপ্রদান চালিয়ে যায়। পাবলিক নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই একটি নির্ভরযোগ্য প্রাইভেসি ফায়ারওয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কেবলমাত্র যে অ্যাপটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অন্য অ্যাপগুলি গোপনে তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবে না।ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য আরও একটি কার্যকর উপায় হল আলাদা একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি রাখা।

 ভ্রমণের সময় সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে। ওই অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যক্তিগত তথ্য রাখা উচিত। ফলে কোনওভাবে তথ্য ফাঁস হলেও মূল অ্যাকাউন্ট বা সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।অনেক পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে লগইন করতে বলে। সেই সময় হঠাৎ করে পাসওয়ার্ড দেওয়া উচিত নয়। আগে দেখে নেওয়া দরকার, ওয়েবসাইটের ঠিকানায় ‘https’ রয়েছে কি না এবং প্যাডলক আইকন দেখা যাচ্ছে কি না। প্যাডলকে ক্লিক করে নিরাপত্তা শংসাপত্র যাচাই করা যেতে পারে। শংসাপত্রে সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।সব মিলিয়ে, বিনামূল্যের ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সতর্কতাই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad