রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ছাত্রের নাম পৃথ্বীরাজ হালদার, বয়স ১৪, যে স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করত। বুধবার সকালে স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ৮টা নাগাদ স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল পৃথ্বীরাজ। তার বাবা রাজকুমার হালদার একজন ব্যবসায়ী। তিনি জানান, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ছেলের মধ্যে কোনও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ ছিল না।
কিন্তু স্কুলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪৮ মিনিট নাগাদ স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয় যে পৃথ্বীরাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারের সদস্যরা স্কুলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তবে পরিবারের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক দেরি করা হয়েছে। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য সুভাষগ্রামের একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানেও একই কথা জানানো হয়। এই অকালমৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রাজকুমার হালদারের দাবি, তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে পৃথ্বীরাজ একদম সুস্থ ছিল, তাই মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে তার মৃত্যু হলো তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে এবং ছাত্রটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্কুলের ভেতর ঠিক কী ঘটেছিল, তাকে কখন অসুস্থ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না এই সমস্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং একটি তরতাজা প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে এটি কোনও স্বাভাবিক শারীরিক অসুস্থতা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল। আপাতত পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শোকাতুর পরিবার ও এলাকাবাসী।

