রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, আর তার ঠিক মুখেই আসানসোলের রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার কুমোরবাজারের চিনকুটি পাড়ায় এক অভাবনীয় ও রহস্যময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় একটি আবর্জনাস্থল থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালে, যখন কয়েকজন পথচারী লক্ষ্য করেন যে রাস্তার ধারের একটি ডাস্টবিন বা আবর্জনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র ভোটার কার্ড। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর এলাকায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলির মধ্যে অনেকেরই নাম ও পরিচয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, যাঁদের নামে ওই কার্ডগুলি মিলেছে, তাঁদের দাবি যে তাঁদের আসল ভোটার পরিচয়পত্র বর্তমানে বাড়িতে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবক তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিজের নামেরই একটি ভোটার কার্ড দেখতে পান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তিনি কখনওই তাঁর আসল ভোটার কার্ড কাউকে দেননি এবং সেটি বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই আছে ফলে আবর্জনার স্তূপে পাওয়া কার্ডটি কীভাবে এল বা সেটি নকল কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে বড় কোনও চক্রান্ত বা প্রশাসনিক গাফিলতি থাকতে পারে। তাঁদের মতে, সাধারণত পুরনো কার্ড বদলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হলে পুরনো কার্ডগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাতিল বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়, কিন্তু সেগুলিকে খোলা জায়গায় এভাবে ফেলে রাখা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এর ফলে জালিয়াতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ সহ আরও অনেকেই দাবি তুলেছেন যে, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং তাঁদের আশঙ্কা, ওই এলাকায় তল্লাশি চালালে এমন আরও কার্ড উদ্ধার হতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রানিগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত ছড়িয়ে থাকা ভোটার কার্ডগুলি সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ পরিচয়পত্র জনসমক্ষে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু নির্বাচন দোরগোড়ায়, তাই ভোটার কার্ডের মতো সংবেদনশীল নথি এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে ভোটার তালিকায় কারচুপি বা ভুয়ো কার্ড তৈরির ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনেও নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা এখন তদন্ত করে দেখছেন এই কার্ডগুলি কি আসলেই নকল, নাকি সরকারি কোনও দপ্তরের অবহেলায় এগুলো এখানে এসে পৌঁছেছে তবে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত রানিগঞ্জের এই চিনকুটি পাড়ায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

