রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর এবং বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী, যা নিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মহাকাশের অতল গহ্বরে অবস্থিত অন্যতম বিশাল এক নক্ষত্র এখন তার অন্তিম শয়ানে, যা যে কোনো মুহূর্তে এক প্রলয়ঙ্কারী বিস্ফোরণ বা সুপারনোভার মাধ্যমে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নক্ষত্রটি সূর্যের তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বড় এবং এর ঔজ্জ্বল্যও অবিশ্বাস্য। সাধারণত মহাকাশে নক্ষত্রদের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র থাকে, যেখানে কোটি কোটি বছর ধরে হাইড্রোজেন পুড়িয়ে তারা শক্তি উৎপন্ন করে।
কিন্তু যখন এই জ্বালানি শেষ হয়ে আসে, তখন নক্ষত্রের কেন্দ্রে থাকা মহাকর্ষীয় বল এবং অভ্যন্তরীণ চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এই বিশেষ নক্ষত্রটির ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে এটি এখন তার কেন্দ্রের হাইড্রোজেন সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে হিলিয়াম পোড়াতে শুরু করেছে, যার ফলে এর আকার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি একটি লাল সুপারজায়েন্ট থেকে হলুদ হাইপারজায়েন্ট-এ রূপান্তরিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো নক্ষত্রের এই হাইপারজায়েন্ট অবস্থা মূলত তার মৃত্যুঘণ্টা বাজার আগের ধাপ। এই পর্যায়ে নক্ষত্রটি তার বাইরের স্তরের গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড গতিতে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে এর চারপাশে একটি বিশালাকার মেঘমালার সৃষ্টি হয়। এই নক্ষত্রটির আয়তন এতই বিশাল যে বিজ্ঞানীরা একে প্রায় ৩৩৭ কোটি সূর্যের সমান বলে অভিহিত করেছেন। মহাকাশ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো তাদের শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে নিরন্তর এই নক্ষত্রটির ওপর নজর রাখছে, কারণ এর বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা ঘটলে তা থেকে নির্গত আলো এবং শক্তি মহাবিশ্বের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।
এই ধরনের বিস্ফোরণ থেকে উৎপন্ন হওয়া নতুন মৌলিক উপাদানগুলোই পরবর্তীকালে নতুন নক্ষত্র বা গ্রহ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে, তাই বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধ্বংস আসলে এক নতুন সৃষ্টির সূচনা। যদিও পৃথিবী থেকে এই নক্ষত্রটি অনেক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, তাই এর বিস্ফোরণে আমাদের গ্রহের সরাসরি কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, তবে এটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। নক্ষত্রের এই মৃত্যু দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের বিবর্তন, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি এবং নক্ষত্রমণ্ডলীর জীবনচক্র সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা লাভ করতে পারবেন। বর্তমানে নক্ষত্রটির চারপাশের ধূলিকণার আস্তরণ এবং এর কম্পন বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, মহাজাগতিক সময়ের হিসেবে এই বিস্ফোরণ খুব শীঘ্রই ঘটবে, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাজাগতিক আতশবাজি হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই নক্ষত্রের অন্তিম মুহূর্তের এই মহানাটকীয় পরিবর্তন যেমন বিস্ময়কর, তেমনি এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অসীম মহাবিশ্বের বুকে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়, এমনকি সবথেকে শক্তিশালী ও উজ্জ্বল নক্ষত্রকেও একদিন না একদিন মহাকালের নিয়মে হারিয়ে যেতে হয়। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত এখন নথিবদ্ধ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহাবিশ্বের এই রহস্যময় রূপান্তর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারে।

