Type Here to Get Search Results !

Thirsty AI : তৃষ্ণার্ত কৃত্রিম মেধা! গুগলের ডেটা সেন্টারে বছরে খরচ প্রায় ৬১০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ জল

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমান বিশ্ব যখন কৃত্রিম মেধা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের  জাদুকরী ক্ষমতায় মন্ত্রমুগ্ধ, তখন পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের চিত্র উঠে এসেছে গুগলের সাম্প্রতিক বার্ষিক এনভায়রনমেন্টাল রিপোর্টে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গুগলের ডেটা সেন্টারগুলি সব মিলিয়ে প্রায় ৬১০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করেছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

এই বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহারের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে কৃত্রিম মেধার মডেলগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং সেগুলিকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সার্ভার সিস্টেম ঠান্ডা রাখার কাজে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন যে, এআই শুধু মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কাই তৈরি করেনি, বরং এটি পৃথিবীর সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতিটি সার্চ বা চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটের প্রতিটি উত্তরের পেছনে কাজ করে হাজার হাজার সার্ভার সমৃদ্ধ বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টার। এই সার্ভারগুলি যখন একটানা কাজ করে, তখন অত্যন্ত গরম হয়ে যায়, আর সেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন হয় কোটি কোটি লিটার ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ জল। গুগলের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, এআই-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে জল ব্যবহারের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, গুগলের জল ব্যবহারের হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত উন্নত জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির প্রসারেরই ফল। 

একটি সাধারণ এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে যে পরিমাণ শক্তি ও জল লাগে, তা দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের জলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ এবং বিশুদ্ধ জল ব্যবহারের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, আমরা যখন ইন্টারনেটে কোনো তথ্য খুঁজি বা এআই দিয়ে কাজ করাই, তখন আমরা সরাসরি অনুভব করতে পারি না যে কতটা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু গুগলের এই পরিসংখ্যান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির এই আকাশছোঁয়া সাফল্য আসলে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির চরম শোষণের ওপর। একদিকে গুগল ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের ব্যবহৃত জলের ১২০ শতাংশ পুনরায় পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বর্তমান বাস্তবতায় চাহিদার সাথে জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র গুগলের নয়, মাইক্রোসফট বা মেটার মতো অন্যান্য বড় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই রকম। কৃত্রিম মেধা যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করছে, ঠিক তেমনই এটি এক নীরব জলদানব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রযুক্তির এই আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে এখন বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি আগামীর ডিজিটাল উন্নতির জন্য আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ জলাঞ্জলি দেব, নাকি প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর ও টেকসই কোনো পথ খুঁজে বের করব? এআই-এর এই তৃষ্ণা যদি সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলসংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, যা কোনো কৃত্রিম মেধা দিয়েই সংশোধন করা সম্ভব হবে না।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad