রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার বেনিয়াপুকুর এলাকায় এক আবাসনের পাঁচ তলা থেকে পড়ে ৮৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এজেসি বোস রোডের ওপর অবস্থিত একটি বহুতলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধের নাম গ্যাব্রিয়েল জোনাস গোম্স এবং বুধবার ভোরে তাঁকে আবাসনের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার খবর পেয়ে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, গ্যাব্রিয়েল বাবু পাঁচ তলার একটি ফ্ল্যাটে একাকী জীবনযাপন করতেন এবং তাঁর দেখাশোনা করার জন্য কেবল একজন পরিচারিকা ছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে, পুলিশ যখন তদন্তে যায়, তখন দেখে যে বৃদ্ধ যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার মূল দরজাটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। স্থানীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিচারিকা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বৃদ্ধের কাছে থাকতেন এবং চলে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার খাতিরে বাইরে থেকে তালা দিয়ে যেতেন, যার ফলে বৃদ্ধ রাতে এক প্রকার বন্দি দশাতেই থাকতেন। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, বুধবার ভোর ৬টা ৫ মিনিট নাগাদ তিনি নিজের ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে নিচে পড়ে যান এবং সেই সময় তিনি কেবল একটি টি-শার্ট ও লুঙ্গি পরেছিলেন। বৃদ্ধের মাথায় এবং শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা ওপর থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি এবং পরিবার বা প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবুও পুলিশ প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগছে যে, কেন একজন অতি বৃদ্ধ মানুষকে রাতে তালাবন্ধ অবস্থায় একা রাখা হতো এবং এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও মানসিক অবসাদ বা কারণ রয়েছে। বৃদ্ধের একাকীত্ব এবং এভাবে তালাবন্ধ অবস্থায় থাকা নিয়ে আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেই সাথে ওই পরিচারিকা ও বৃদ্ধের আত্মীয়স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে পুলিশের, যাতে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। এই ঘটনাটি মহানগরের বুকে একাকী প্রবীণদের নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক করুণ চিত্র পুনরায় সামনে এনে দিয়েছে, যা নিয়ে শহরের সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

