Type Here to Get Search Results !

Alliance Rift : বাম-আইএসএফ জোটের মাঝেই সিপিএমকে আলাদা পথে হাঁটার ডাক হুমায়ুন কবীরের

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে জোট সমীকরণ ঘিরে জল্পনা আরও ঘনীভূত। বামফ্রন্ট ও আইএসএফের মধ্যে জোট নিশ্চিত হওয়ার খবর সামনে আসতেই নতুন করে সরব হলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবির । তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোটে তিনি রাজি নন। তবে সিপিএম ও আইএসএফকে নিয়ে আলাদা সমীকরণ গড়ে তুলতে চান।হুমায়ুনের দাবি, এই বার্তা তিনি ইতিমধ্যেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম -কে পাঠিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আসন্ন ‘ছাব্বিশের লড়াইয়ে’ সিপিএম ও আইএসএফ একসঙ্গে লড়ুক, কিন্তু বামফ্রন্টের ব্যানারে নয়।

অর্থাৎ শরিক দলগুলিকে পাশে না নিয়ে সিপিএমকে পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ৭ মার্চ পর্যন্ত সেলিমের উত্তরের অপেক্ষায় থাকবেন বলেও জানিয়েছেন হুমায়ুন।প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট ও আইএসএফের সম্ভাব্য জোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আইএসএফ বিধায়ক নৌসাদ সিদ্দিক একাধিকবার চিঠি দিলেও প্রথমদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি বামেরা এমন অভিযোগ উঠেছিল। ফলে জোট আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে মঙ্গলবার স্পষ্ট হয়, আইএসএফের সঙ্গেই জোটে যেতে চলেছে লেফট ফ্রন্ট । যদিও আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।এই ঘোষণার পরই নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন হুমায়ুন। এর আগেও ভোটের মুখে বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ তুলে ভোট চাওয়ার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। বাম শিবিরের একাংশ সেই বৈঠককে ভাল চোখে দেখেনি। আদর্শচ্যুত হওয়ার অভিযোগও ওঠে। 

যদিও দলীয় সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে ওই বৈঠককে ইতিবাচক বলে কখনও প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।পরবর্তীতে হুমায়ুন নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বামেদের সঙ্গে জোটে যাবেন না। তখনও সিপিএম প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নেয়নি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। বামফ্রন্ট-আইএসএফ জোটের ঘোষণা সামনে আসতেই সরাসরি সিপিএমকে শরিকদের ছেড়ে বেরিয়ে আসার ডাক দিলেন তিনি।উল্লেখযোগ্য বিষয়, ১৯৭৭ সালে সিপিএমের নেতৃত্বে একাধিক দলকে নিয়ে গঠিত হয় বামফ্রন্ট। আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ মোট সাতটি দল দীর্ঘদিন ধরে এই জোটের শরিক। তারপর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই একসঙ্গে লড়েছে তারা। সেই ঐতিহ্য ভেঙে সিপিএমকে পৃথক পথে হাঁটার আহ্বান রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।হুমায়ুনের এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। সিপিএম নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে জোট রাজনীতির অঙ্ক যে আরও জটিল হতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। ভোটের আগে এই নতুন বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad