রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ছয় দশকের পুরনো ১৯৬১ সালের আয়কর আইনকে বিদায় জানিয়ে আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন আয়কর আইন ২০২৫। রবিবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় এই বড় ঘোষণাটি করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়কর আইনের পর্যালোচনার যে কাজ শুরু হয়েছিল, তা রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো কর ব্যবস্থাকে আরও সরল করা, সাধারণ মানুষের ওপর থেকে করের বোঝা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা বা মামলা হ্রাস করা। সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার জন্য আইটিআর ফর্মগুলিকে আরও সহজ করা হয়েছে। করদাতাদের কথা মাথায় রেখে ফরম্যাট পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে কোনো ঝক্কি ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। ছোটখাটো কর ফাঁকির ক্ষেত্রে এখন আর জেল হবে না। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সামান্য ত্রুটির জন্য ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়েই নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। করদাতাদের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ। বিদেশ সফরের প্যাকেজ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে টিসিএস এর হার ৫ শতাংশ ও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ করা হয়েছে, এর কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।
বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও টিসিএস-এর হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। করদাতারা এখন ৩১ মার্চের মধ্যে তাঁদের রিভাইজড রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যা আগে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেম ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের সুদের ওপর এখন আর কোনো আয়কর লাগবে না। এমনকি কোনো টিডিএস-ও কাটা হবে না। নতুন আইনে করের বোঝা কমানোর চেষ্টা করা হলেও, বর্তমান বছরের ট্যাক্স স্ল্যাবে বড় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে কর ব্যবস্থাকে আরও বেশি ডিজিটাল এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি করা হয়েছে। নতুন এই আইনটি কার্যকর হলে ভারতের কর ব্যবস্থা এক নতুন যুগে পদার্পণ করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ট্রাস্ট-বেসড ট্যাক্সেশন বা আস্থার ভিত্তিতে কর আদায় করা।

