রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ছোট্ট একটি দানা, কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর। তিসির বীজ বহুদিন ধরেই স্বাস্থ্যরক্ষায় উপকারী হিসেবে পরিচিত। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন এবং লিগনানের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে সমৃদ্ধ এই বীজ হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমশক্তি বৃদ্ধি নানা ক্ষেত্রে কার্যকর। প্রতি ১০০ গ্রাম তিসিতে প্রায় ৪২ শতাংশ চর্বি, ২০ শতাংশ প্রোটিন এবং ২৮ শতাংশ ফাইবার থাকে, যা কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শুধু শরীর নয়, চুল ও ত্বকের যত্নেও তিসির বীজ সমান উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি দানা হিসেবে খাওয়া বা মাখার পরিবর্তে জেল, তেল বা গুঁড়ো আকারে ব্যবহার করলে এর পুষ্টিগুণ দ্রুত শোষিত হয়।
বিশেষ করে তিসির জেল চুল ও মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। জল ও তিসির বীজ একসঙ্গে ফুটিয়ে তৈরি করা যায় এই প্রাকৃতিক জেল। মিশ্রণটি জেল-জাতীয় ঘন আকার ধারণ না করা পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হয়। এতে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান, যা চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকের পুষ্টি জোগায়। তিসির জেল ব্যবহারের অন্যতম বড় উপকারিতা হল চুল গজানোয় সহায়তা করা। এই জেল মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল উন্নত করতে সাহায্য করে, ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। ওমেগা-৩ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং চুল ভাঙার প্রবণতা কমায়। এর ফলে চুল দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর ভাবে বাড়তে পারে। এছাড়া তিসির জেল মাথার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজ়ার হিসেবে কাজ করে, ফলে চুল ভিতর থেকে আর্দ্র থাকে। চুল ছিঁড়ে যাওয়া বা আগা ফাটা সমস্যা কমে। প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় চুলের গঠনও মজবুত হয়।
পাশাপাশি প্রদাহ কমার ফলে খুশকির প্রকোপও হ্রাস পেতে পারে। চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতেও কার্যকর এই জেল। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে ও মসৃণ হতে পারে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসমূহ চুলের ফলিকলে পুষ্টি পৌঁছে দেয়, ফলে চুল হয় শক্ত ও ঘন। কোনও রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এই প্রাকৃতিক উপাদান। অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যাতেও উপকার পেতে পারেন অনেকে। তিসির বীজ প্রদাহ কমাতে সহায়ক হওয়ায় চুলের গোড়ার স্বাস্থ্য বজায় থাকে। এর ফলে চুল পেকে যাওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, তিসির জেল একটি সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক সমাধান, যা চুল ও মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকর হতে পারে। তবে যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের ব্যবহার করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক ভাবেই চুলের যত্ন নেওয়া সম্ভব।

