Type Here to Get Search Results !

Raj Samani : মধ্যবিত্তের লড়াই থেকে গ্লোবাল আইকন, ভারতের ১ নম্বর পডকাস্টার রাজ শামানির রূপকথা

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির জগতে রাজ শামানি আজ এক অনন্য নাম, যার সাফল্যের মুকুটে সাম্প্রতিকতম পালকটি হলো ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এক সাধারণ মারওয়াড়ি পরিবারে ১৯৯৭ সালের ২৯ জুলাই জন্ম নেওয়া রাজের জীবনকাহিনি কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যখন তাঁর বাবা নরেশ শামানি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন এবং পরিবারের ছোট কেমিক্যাল ব্যবসাটি লাটে ওঠার উপক্রম হয়, তখন থেকেই রাজের কাঁধে এসে পড়ে সংসারের গুরুভার। অভাবের তাড়নায় এবং ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাবার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে তিনি ঘরেই বাসন মাজার তরল সাবান তৈরি শুরু করেন, যার নাম দিয়েছিলেন জাদুগর ড্রপ। দুটি বড় বালতিতে সাবান গুলে সেই তরল মিশ্রণ বোতলে ভরে ইন্দোরের অলিগলিতে ঘুরে ঘরে ঘরে বিক্রি করতেন তিনি। বাজারের প্রচলিত পণ্যের চেয়ে সস্তায় উন্নত মানের সাবান সরবরাহ করে তিনি খুব অল্প সময়েই স্থানীয় বাজারে পরিচিতি পান।

 এই পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে তিনি গড়ে তোলেন শামানি ইন্ডাস্ট্রিজ যা বর্তমানে কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু রাজের স্বপ্ন কেবল ব্যবসার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁর ভয় ছিল ইংরেজি ভাষার প্রতি, যাকে তিনি জুজু মনে করতেন। সেই ভয়কে জয় করতেই তিনি নিজেকে একজন বক্তা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। আজ তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ফিগারিং আউট উইথ রাজ শামানি-র সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মেও তিনি শীর্ষস্থানে রয়েছেন। সম্প্রতি ভারতের এআই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আসা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ভারতের কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তে রাজের পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হওয়াটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। মাক্রোঁ ছাড়াও তাঁর অতিথি তালিকায় রয়েছেন বিল গেটস, সুনীতা উইলিয়ামস, বিজয় মাল্য, আমির খান, এমএস ধোনি এবং এস জয়শঙ্করের মতো ব্যক্তিত্বরা। 

বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক রাজ শামানি কেবল একজন সফল ইউটিউবার বা উদ্যোক্তা নন, বরং তিনি ভারতের যুবসমাজের কাছে এক প্রেরণার নাম, যিনি প্রমাণ করেছেন যে সামান্য পুঁজি আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে ইন্দোরের রাস্তা থেকে এলিসি প্যালেসের অধিপতি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর এই পথচলা শেখায় যে প্রতিকূলতাকে জয় করতে হলে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করা কতটা জরুরি। সাবান ফেরিওয়ালা থেকে বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি বসা এই যুবকের কাহিনী আজ ডিজিটাল ভারতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষণীয় পাঠ। রাজের এই মুনশিয়ানা এবং সাবলীল উপস্থাপনা তাঁকে ভারতের এক নম্বর পডকাস্টার হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে দিয়েছে, যা আগামী দিনে ভারতের ডিজিটাল মাধ্যমকে বিশ্বমঞ্চে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad