রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ করা সংবিধানের পরিপন্থী স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট । শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, সরকারি পদে আসীন ব্যক্তি হোন বা সাধারণ নাগরিক কেউই বক্তৃতা, মিম, কার্টুন বা ভিজ়্যুয়াল আর্টের মাধ্যমে কোনও সম্প্রদায়কে অপমান করতে পারেন না। বিশেষত সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব আরও বেশি বলেই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
সম্প্রতি পরিচালক নীরাজ পাণ্ডে-র এক চলচ্চিত্রের নাম ঘিরে বিতর্কের সূত্র ধরেই এই পর্যবেক্ষণ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ছবির নাম একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করছে। বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তী সময়ে নির্মাতা পক্ষ নাম পরিবর্তনে রাজি হওয়ায় মামলার নিষ্পত্তি হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হলফনামা জমা পড়ার পরই মামলাটি খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।এই মামলায় বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা একটি পৃথক রায়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারপতি ভূঞা লেখেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনও সম্প্রদায়কে আক্রমণ করা হলে তা সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ করে উচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নীতি কঠোর ভাবে প্রযোজ্য। কারণ তাঁরা সংবিধান রক্ষা ও মান্য করার শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।এই মামলাটি শুনানি হয় বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চে।
রায় ঘোষণার সময়ে বেঞ্চ আশা প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক আর তৈরি হবে না। তবে একই সঙ্গে আদালত নাগরিকদের সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।রায়ে বিচারপতি ভূঞা দেশের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি লেখেন, ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং জাতি, ধর্ম বা ভাষা নির্বিশেষে সকল সহনাগরিককে সম্মান করা সাংবিধানিক কর্তব্য। প্রত্যেক নাগরিকেরই এই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত। সংবিধানের মূল চেতনা বহুত্ববাদ, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান এই বার্তাই পুনর্ব্যক্ত করেছে আদালত।সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্যের নজির বেড়েছে। সমাজমাধ্যমেও প্রায়শই দেখা যায় সম্প্রদায়ভিত্তিক কটূক্তি বা আক্রমণাত্মক পোস্ট। এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই মৌলিক অধিকার, তবে তা সীমাহীন নয়। অন্যের সম্মান ও সংবেদনশীলতাকে আঘাত করে এমন বক্তব্য সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী।সব মিলিয়ে শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিল। ক্ষমতার আসনে বসে বা জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার সময়ে সংযম ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব আবারও সামনে এল। দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামোয় সম্প্রীতি বজায় রাখাই যে সর্বাগ্রে, তা ফের এক বার মনে করিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

