রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সিইও সূত্রে খবর, দল গঠনের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই-বাছাইয়ের পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্বাচন সদনে পাঠানো হয়েছে সুপারিশপত্র। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই মিলতে পারে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর হলেই প্রতীকের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ রাজ্যের বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার ভোট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার খাগরুপাড়া মোড়ে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি তখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস -এর সাসপেন্ডেড বিধায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে স্থগিতাদেশ জারির পরই আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির পথে হাঁটেন তিনি। প্রকাশ করেন দলের নাম ও প্রাথমিক ইস্তাহারও।ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নতুন দলের নামে ‘কংগ্রেস’ বা ‘তৃণমূল’ শব্দ রাখতে চান না। তাঁর যুক্তি, মুর্শিদাবাদের মানুষ পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণে আস্থা হারিয়েছেন। সাধারণ মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই দলের নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই দল হবে আমজনতার দল উন্নয়ন ও স্থানীয় স্বার্থরক্ষাই হবে প্রধান লক্ষ্য।বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও বেলডাঙা এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই কেন্দ্রেই তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব রয়েছে। ফলে নতুন দলের ব্যানারে লড়াই করলে ফলাফলে কতটা প্রভাব পড়ে, তা নজরে থাকবে সব মহলের।দলের সম্ভাব্য প্রতীক নিয়েও আগেভাগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, নতুন দলের জন্যও ‘টেবিল’ই তাঁর প্রথম পছন্দ।
নির্বাচন কমিশন সেই প্রতীক অনুমোদন না করলে বিকল্প হিসেবে ‘জোড়া গোলাপ’ প্রতীক চাওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। সেটিও সম্ভব না হলে অন্য প্রতীকের আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।দলের পতাকায় থাকবে তিন রং হলুদ, সবুজ ও সাদা। এই রং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভাবনা রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। হলুদ উন্নয়নের প্রতীক, সবুজ কৃষি ও গ্রামীণ জনজীবনের ইঙ্গিত এবং সাদা শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করবে— এমনটাই দাবি দলীয় নেতাদের।এখন নজর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। সুপারিশ গৃহীত হলে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক স্বীকৃতি পাবে। তার পরেই শুরু হবে সংগঠন বিস্তারের কাজ। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।সব মিলিয়ে বলা যায়, সিইও দফতরের সুপারিশ নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল। এখন অপেক্ষা কমিশনের সিলমোহর এবং প্রতীক ঘোষণার। এরপরই ভোটময়দানে নামার পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারবেন হুমায়ুন কবীর ও তাঁর নতুন দল।

