রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মার্কিন সেনা মোতায়েন বা যুদ্ধের হুমকিতে ইরানকে দমিয়ে রাখা যাবে না সাফ বার্তা দিল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক তৎপরতিতে ইরান আদৌ ভীত নয়। বরং এই পরিস্থিতি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে, যাদের ইরান ‘কৌশলগত বন্ধু’ হিসেবে বিবেচনা করে।রবিবার তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস বলেন, সেনা সজ্জা বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারির মাধ্যমে ইরানের নীতি বা সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয়।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানেই আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিদেশমন্ত্রী।আব্বাস জানান, ওমানে আমেরিকার সঙ্গে যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, তা ওয়াশিংটন খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর মনে হয় না। ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আপসের প্রশ্নই ওঠে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা কী করব, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার অন্য কোনও শক্তির নেই। যুদ্ধের হুমকিতেও আমরা টলব না।”উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন সংঘর্ষ চলেছিল, যেখানে সাময়িক ভাবে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়ে।
তার পর এই প্রথম শুক্রবার মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসে ইরান। তবে সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক বার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আরব সাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ১৪টি জাহাজ ও ১৫টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হোয়াইট হাউস।পরমাণু অস্ত্র নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্বাস বলেন, ইরান পরমাণু বোমা চাইছে না। তাঁর দাবি, “বড় শক্তিগুলিকে ‘না’ বলার ক্ষমতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

