রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রতিরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যেকার ঐতিহাসিক মৈত্রীকে আধুনিক প্রযুক্তির আলোয় পুনর্গঠিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল গভর্নেন্স বা ডিজিটাল পরিচালন ব্যবস্থায় ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা তুলে ধরে জানান যে, ভারত শীঘ্রই একটি এআই-ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করতে চলেছে, যার মূল লক্ষ্য হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উন্নয়নমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই সম্মেলনে মালয়েশিয়াকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যাতে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আধুনিক যুদ্ধের রণকৌশল এবং প্রযুক্তির আদান-প্রদান ভারতকে এই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে দুই দেশই এই খাতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, আর ভারত ও মালয়েশিয়া যদি এই খাতে সম্মিলিতভাবে বিনিয়োগ ও গবেষণা চালায়, তবে দুই দেশই বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে মালয়েশিয়াও ভারতের ফিনটেক এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
ভারতের এই ডিজিটাল বিপ্লব কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে, তা দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আলোচনার একটি অন্যতম বিষয় ছিল। পরিশেষে বলা যায়, এই নতুন চুক্তি বা সমঝোতা কেবল দুই দেশের বাণিজ্যিক সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব প্রদানে ভারত ও মালয়েশিয়ার এক জোট হয়ে কাজ করার পথ প্রশস্ত করবে। সামগ্রিকভাবে, এআই থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

