রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তুরস্কের সেই সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে ইয়ারবাড বিস্ফোরণে এক তরুণী চিরতরে শ্রবণক্ষমতা হারিয়েছেন, আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লুটুথ ডিভাইসের ভেতরে থাকা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই জীবনযাত্রা সহজ করতে গিয়ে আমরা যেন নিজেদের বড় কোনো বিপদে ঠেলে না দিই, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। কানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা '৬০ ৬০' নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন, অর্থাৎ ৬০ শতাংশ ভলিউমে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট শোনার পর কানকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। দীর্ঘক্ষণ একটানা উচ্চশব্দে গান শুনলে অন্তর্কর্ণের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা ভবিষ্যতে বধিরতার কারণ হতে পারে। এছাড়া ডিভাইসের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ জমে থাকা ঘাম বা ধুলো ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ সার্কিটে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অনেক ব্যবহারকারী সারারাত চার্জ দেওয়ার অভ্যেস রাখেন, যা ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয় এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে সস্তার চার্জার ব্যবহার বা ভেজা হাতে ডিভাইস ধরা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা তৈরি করে। মনে রাখা প্রয়োজন, শরীর যখনই কোনো অস্বস্তির সংকেত দেবে যেমন কান গরম হওয়া বা জ্বালাপোড়া করা তা মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। প্রযুক্তির সুফল ভোগ করার পাশাপাশি সামান্য সচেতনতা ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণই পারে আমাদের এই ধরণের বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য কানের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের যত্ন নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

