রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কয়েকশ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বর্তমান সময়ের মতো গাছপালা বা প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল না। তখন এই গ্রহের আধিপত্য ছিল এমন এক অদ্ভুত জীবের হাতে, যার নাম প্রোটোট্যাক্সাইটস। দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীরা এই বিচিত্র ফসিল বা জীবাশ্মের রহস্য উন্মোচনে কাজ করে চলেছেন। ১৮৫৯ সালে প্রথম কানাডায় এই জীবাশ্মের খোঁজ মেলার পর থেকে এটি উদ্ভিদ নাকি ছত্রাক, তা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে তীব্র বিতর্ক ছিল। প্রোটোট্যাক্সাইটস দেখতে ছিল লম্বা স্তম্ভের মতো, যা উচ্চতায় প্রায় ২৪ ফুট পর্যন্ত হতে পারত, অথচ প্রস্থে ছিল মাত্র ৩ ফুটের মতো।
সেই আদিম যুগে যখন ডাঙার গাছপালা মাত্র কয়েক ইঞ্চি লম্বা হতো, তখন এই দানবাকৃতির গঠনটি ছিল এক বিস্ময়। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, এই প্রোটোট্যাক্সাইটস আসলে উদ্ভিদ, প্রাণী বা সাধারণ ছত্রাক কোনোটিই নয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা দেখেছেন যে, এদের দেহের গঠন বা তন্তুর বিন্যাস বর্তমান কোনো পরিচিত শ্রেণির জীবের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। শুরুতে অনেক বিজ্ঞানী একে এক ধরনের বিশালাকার মাশরুম বা ছত্রাক বলে মনে করেছিলেন কারণ এর আইসোটোপিক গঠন ছত্রাকের কাছাকাছি ছিল।
কিন্তু নতুন গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ পৃথক বিবর্তনীয় ধারার অংশ ছিল যা একসময় পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদের শরীরে কোনো পাতা, ডালপালা বা শিকড় ছিল না, বরং এগুলো ছিল টিউব বা নল সদৃশ অসংখ্য তন্তুর সমষ্টি। এই তন্তুগুলো মাটি থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করত এবং বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন গ্রহণ করত। আদিম পৃথিবীতে যখন প্রাণের বিকাশ ঘটছে, তখন এই প্রোটোট্যাক্সাইটসরা বাস্তুতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করত।
এদের বিলুপ্তির কারণ হিসেবে মনে করা হয় পরবর্তী সময়ে উন্নত সংবহনতন্ত্র সম্পন্ন উদ্ভিদের আগমন এবং পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন। আধুনিক বিজ্ঞানের এই নতুন পর্যবেক্ষণ আমাদের জীবন সম্পর্কে ধারণা বদলে দিচ্ছে এবং প্রমাণ করছে যে পৃথিবীর আদিম জীববৈচিত্র্য আমরা যা ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও রহস্যময় ছিল। সুতরাং, প্রোটোট্যাক্সাইটস কেবল একটি জীবাশ্ম নয়, বরং এটি বিবর্তনের ইতিহাসের এমন এক হারানো অধ্যায় যা আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা হয়ে রয়ে গেছে।

