রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যা তাঁদের জীবনকে এক মুহূর্তে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের সাত জন ভারতীয় নাগরিক বন্যার সময় নিজেদের গবাদি পশু বাঁচাতে গিয়ে আচমকাই প্রবল স্রোতে ভেসে যান। জলস্তর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তাঁরা বুঝতেই পারেননি, কখন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে পৌঁছে গিয়েছেন।
বন্যার জলে ভেসে সীমান্ত পেরোনোর পর তাঁদের সামনে নেমে আসে চরম দুঃস্বপ্ন। পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর স্থানীয় এক পরিবারের কাছে সাহায্য চাইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মুক্তি পাওয়া এক ভারতীয় জানান, তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিবার তাঁদের কথা না শুনে পাক সেনাকে খবর দেয়।এর পর তাঁদের চোখ-মুখ বেঁধে টেনে হিঁচড়ে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করে পাঠানো হয় জেলে। পরবর্তী তিন বছর পাকিস্তানের জেলে বন্দি অবস্থায় কাটে তাঁদের জীবন। বন্দিদশায় চরম নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এক বন্দির দাবি, অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হত তাঁদের।
মাঝেমধ্যেই মারধর করে আবার সেই ঘরেই আটকে দেওয়া হত।সংবাদসংস্থা এনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পর রবিবার সকালে পঞ্জাবের অটারী সীমান্তে ওই সাত জনকে বিএসএফের হাতে তুলে দেয় পাক রেঞ্জার্স। অটারী সীমান্তের প্রোটোকল অফিসার অরুণ মহল জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে আসার পরই দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।মুক্তি পাওয়া সাত জনের মধ্যে চার জন পঞ্জাবের ফিরোজ়পুর জেলার বাসিন্দা। জালন্ধর ও লুধিয়ানার একজন করে এবং উত্তরপ্রদেশের একজন রয়েছেন তাঁদের মধ্যে। দেশে ফিরে সকলেই ভারত সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের কথায়, সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ না থাকলে হয়তো এত দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব হত না।

