রাতদিন ওয়েবডেস্ক: ভারতে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে দেশের ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণদের একটি বড় অংশ এই রোগের কবলে পড়ছেন। তবে সাধারণ উচ্চ রক্তচাপের চেয়েও চিকিৎসকদের বেশি কপালে ভাঁজ ফেলেছে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ভারতীয় তরুণদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশই এই বিশেষ ধরনের রোগে ভুগছেন।
সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন আসলে কী? চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত দুই ধরনের হয়, প্রাইমারি হাইপারটেনশন' কোনো নির্দিষ্ট রোগ ছাড়াই মূলত অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হল এমন এক অবস্থা, যেখানে রক্তচাপ বৃদ্ধির নেপথ্যে থাকে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা। অর্থাৎ, উচ্চ রক্তচাপ এখানে নিজে রোগ নয়, বরং অন্য কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় তরুণদের মধ্যে এই রোগ বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো, অতিরিক্ত ওজন এবং অত্যাধিক নুনযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা। কিডনির ধমনী সংকুচিত হওয়া বা কিডনির জটিলতা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা তরুণদের মধ্যে মারাত্মকভাবে বাড়ছে।
ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার ফলেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকেও রক্তচাপ বাড়তে পারে। কেন এটি বেশি বিপজ্জনক? সাধারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় ধীরগতিতে শরীরের ক্ষতি করে। কিন্তু সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন অত্যন্ত দ্রুত এবং হঠাৎ করে হানা দেয়। এর ফলে খুব অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক বা কিডনি বিকল হওয়ার মতো ভয়াবহ জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রক্তচাপের ওষুধেও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না।শনাক্তকরণের উপায় চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যদি খুব কম বয়সে রক্তচাপ ধরা পড়ে! তবে শুধুমাত্র ওষুধ না খেয়ে মূল কারণটি খোঁজা জরুরি। রক্তে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের মাত্রা এবং হরমোন পরীক্ষা, কিডনির আলট্রাসাউন্ড, জীবনযাপনে বদল আনা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

