রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে ব্যাটারি ওয়ারেন্টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চিন্ত সেবা প্রদানের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যেখানে সিম্পল এনার্জি থেকে শুরু করে ওলা ইলেকট্রিক এবং অ্যাথার এনার্জি এর মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের আধুনিক প্রযুক্তির স্কুটারে অভূতপূর্ব ওয়ারেন্টি সুবিধা দিচ্ছে। ইলেকট্রিক গাড়ির মূল হৃদপিণ্ড হলো এর ব্যাটারি, যা বেশ ব্যয়বহুল তাই এই অংশের স্থায়িত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্রেতাদের মনে সব সময়ই এক ধরণের দ্বিধা কাজ করে, যা কাটাতে কোম্পানিগুলো এখন ৩ বছর থেকে শুরু করে আজীবন বা লাইফটাইম ওয়ারেন্টি পর্যন্ত দেওয়ার ঘোষণা করছে।
এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে এসেছে বেঙ্গালুরু ভিত্তিক স্টার্টআপ সিম্পল এনার্জি, যারা তাদের 'সিম্পল ওয়ান জেন ২' মডেলের ব্যাটারি এবং মোটর উভয়ের জন্যই আজীবন বা লাইফটাইম ওয়ারেন্টি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, যা ভারতীয় অটোমোবাইল ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। অন্যদিকে, ভারতের বৃহত্তম ইলেকট্রিক টু-হুইলার নির্মাতা ওলা ইলেকট্রিক তাদের এস১ সিরিজের স্কুটারগুলোতে ৮ বছর বা ৮০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাটারি ওয়ারেন্টি প্রদান করছে, যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বর্ধিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যাথার এনার্জিও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই; তারা তাদের প্রো-প্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য 'অ্যাথার এইট৭০' নামক একটি বিশেষ পরিকল্পনা চালু করেছে, যা ৮ বছর বা ৮০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারি কভারেজ দেয় এবং গ্যারান্টি দেয় যে ৮ বছর পরেও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বা হেলথ অন্তত ৭০ শতাংশ বজায় থাকবে। টিভিএস আইকিউব এবং বাজাজ চেতক এর মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত ৩ বছর বা ৫০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিলেও রিভার ইন্ডি এর মতো নতুন প্রজন্মের কোম্পানিগুলো ব্যাটারি ও মোটর উভয় ক্ষেত্রেই ৩ বছরের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। এমনকি সুজুকির মতো জাপানি সংস্থাও তাদের আসন্ন ই-অ্যাক্সেস স্কুটারে ৭ বছর বা ৮০,০০০ কিলোমিটারের বর্ধিত ওয়ারেন্টি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যাতে গ্রাহকরা পেট্রোল চালিত স্কুটার থেকে ইলেকট্রিক স্কুটারে যাওয়ার সময় মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকেন। ইলেকট্রিক স্কুটারের ব্যাটারি লিথিয়াম-আয়ন বা এলএফপি প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার কারণে সময়ের সঙ্গে এর কার্যক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায়, কিন্তু কোম্পানিগুলোর এই দীর্ঘস্থায়ী ওয়ারেন্টি সুবিধা কেবল ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচই কমাবে না, বরং সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে এই স্কুটারগুলোর পুনরবিক্রয় মূল্য বা রিসেল ভ্যালু বাড়াতেও সাহায্য করবে।
সরকারি ভর্তুকি বা ফেম স্কিম এবং পিএম ই-ড্রাইভের মতো নীতিগুলোর পরিবর্তনের ফলে ইলেকট্রিক স্কুটারের দাম মাঝে মাঝে ওঠা-নামা করলেও, এই দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টিগুলো দীর্ঘকালীন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলো এখন হোম চার্জার এবং পোর্টেবল চার্জারের ওপরও আলাদা ওয়ারেন্টি দিচ্ছে, যা সামগ্রিক ইকোসিস্টেমটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। বর্তমান বাজারে ওলা এবং অ্যাথারের মতো বড় কোম্পানিগুলো যেখানে সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং দ্রুত চার্জিং স্টেশনের ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ ব্যাটারি ওয়ারেন্টি গ্রাহকদের মনে ব্র্যান্ডের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যাটারির জন্য পারফরম্যান্স অ্যাসুরেন্স গ্যারান্টি দিচ্ছে, যার অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাটারি চার্জ ধারণ করার ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোম্পানি তা বিনামূল্যে মেরামত বা পরিবর্তন করে দেবে। ব্যাটারি ওয়ারেন্টির এই বিপ্লব কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের স্কুটারের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গিগ-ওয়ার্কার বা ডেলিভারি পার্টনারদের জন্য তৈরি বিশেষ মডেলগুলোতেও এখন বেশি কিলোমিটার কভারেজ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে এখন কেবল রেঞ্জ বা গতি নয়, বরং কে কত বেশি বছরের সুরক্ষা দিতে পারে সেই লড়াই শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের জন্যই লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে এবং ভারতকে সবুজ ও দূষণমুক্ত যাতায়াতের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

