রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নিছক রসনা তৃপ্তি নাকি অপরাধপ্রবণতা? জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বর্তমানে এই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। প্রিয় খাবার মোমো খাওয়ার টাকার জোগাড় করতে নিজের বাড়িতেই হাত সাফাই করল এক কিশোর। আলমারি ভেঙে দামী সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছিল সে। তবে শেষরক্ষা হয়নি, পুলিশের জালে ধরা পড়তে হয়েছে সেই কিশোরকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ি ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোর গত কয়েকদিন ধরেই দামী মোমো এবং বাইরের খাবার খাওয়ার জন্য পরিবারের কাছে টাকার বায়না করছিল। কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বারবার অত টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। অভিযোগ, পরিবারের লোকেদের ওপর রাগ করেই এবং নিজের শখ পূরণ করতে সে চুরির পরিকল্পনা করে। কীভাবে ঘটল চুরি? গত মঙ্গলবার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোর আলমারির তালা ভেঙে পরিবারের গচ্ছিত সোনার গয়না চুরি করে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে দেখেন আলমারি খোলা এবং গয়না উধাও।
প্রথমদিকে তারা বহিরাগত চোরের কথা ভাবলেও, কিশোরের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় এবং তাকে বাড়িতে না পাওয়ায় ধূপগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্তে নামে। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে কিশোরটি গয়না নিয়ে শিলিগুড়ির দিকে পালানোর চেষ্টা করছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর স্বীকার করেছে যে, মোমো খাওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে দামী রেস্তোরাঁয় সময় কাটানোর খরচ জোগাড় করতেই সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ফাস্ট ফুড এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রতি যে তীব্র আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে, তা অনেক সময় তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। শুধুমাত্র সামান্য খাবারের নেশায় নিজের বাড়িতেই চুরির এই ঘটনা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই একটি প্রতিচ্ছবি। বর্তমানে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ওই কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত কিশোরকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

