রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ব্যস্ত সকালে তাড়াহুড়ো করে কফিতে চুমুক কিংবা বিকেলের আড্ডায় ধোঁয়া ওঠা চা এক মুহূর্তের অসাবধানতায় জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের প্রায় সবার সাথেই ঘটে। জিহ্বার অগ্রভাগ পুড়ে গেলে শুধু যে জ্বালাপোড়া করে তাই নয়, পরবর্তী কয়েকদিন কোনো খাবারের স্বাদ পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদানেই মিলবে দ্রুত মুক্তি।
ঠান্ডা জলের ঝাপটা জিহ্বা পোড়ার সাথে সাথে প্রথম কাজ হলো সেটিকে ঠান্ডা করা। অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট ঠান্ডা জল দিয়ে কুলকুচি করুন। এটি টিস্যুর ভেতরের তাপ কমিয়ে দেয় এবং প্রদাহ রোধ করে। তবে সরাসরি বরফ জিহ্বায় চেপে ধরবেন না এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। মধুর জাদুকরী গুণ মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। জিহ্বা পুড়ে গেলে এক চামচ মধু আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এটি জ্বালাপোড়া কমানোর পাশাপাশি ক্ষতে সংক্রমণ হতে দেয় না। দই বা ঠান্ডা দুধ পুড়ে যাওয়া জিহ্বায় ঠান্ডা দই বা এক চুমুক ঠান্ডা দুধ দারুণ আরামদায়ক। দইয়ের শীতলতা এবং এর প্রোটিন স্তরের সুরক্ষাকবচ জিহ্বার জ্বালাপোড়া নিমেষেই কমিয়ে দেয়।
এটি জিহ্বার সংবেদনশীলতাকে শান্ত করতে সাহায্য করে। চিনি বা মিছরি হঠাৎ জিহ্বা পুড়লে দ্রুত আরাম পেতে এক চিমটি চিনি বা মিছরি পোড়া জায়গায় ছিটিয়ে দিন। চিনি গলে যাওয়ার সময় জিহ্বায় একটি প্রলেপ তৈরি করে, যা ব্যথা কমাতে সহায়ক।অ্যালোভেরা জেল অ্যালোভেরা তার শীতলীকরণ গুণের জন্য পরিচিত। টাটকা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি জিহ্বার আক্রান্ত স্থানে লাগালে দ্রুত কোষ মেরামত হয় এবং যন্ত্রণা কমে। বিশেষ সতর্কতা জিহ্বা পোড়া থাকা অবস্থায় কয়েকদিন অতিরিক্ত ঝাল, নোনতা বা টক খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের খাবার ক্ষতস্থানকে আরও উসকে দিতে পারে। এছাড়া, ঘা যদি খুব গভীর হয় বা কয়েক দিনেও না কমে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

