রাতদিন ওয়েবডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার প্রশাসক কিম জং উন-কে ফের প্রকাশ্যে দেখা গেল তাঁর কন্যা কিম জু-কে পাশে নিয়ে। এক দলীয় সভায় বাবা-কন্যার একসঙ্গে উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে তা হলে কি কিমের উত্তরসূরি হতে চলেছেন তাঁর কন্যাই? সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, দু’জনেই কালো জ্যাকেট পরে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে। কিমকে কন্যার সঙ্গে কথা বলতে এবং কিছু বোঝাতে দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
এর আগেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁর কন্যাকে। সামরিক মহড়া, সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাবার ছায়াসঙ্গী হয়েছেন কিম জু। ২০২২ সালে প্রথম বার জনসমক্ষে কিম কন্যাকে নিয়ে আসেন। সে সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। সেই থেকেই উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে উত্তরাধিকার প্রশ্নটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিম পরিবার বহু দশক ধরে ক্ষমতায়। তাই কন্যাকে বারবার জনসমক্ষে আনা নিছক পারিবারিক উপস্থিতি নাকি রাজনৈতিক বার্তা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ধীরে ধীরে কিম তাঁর কন্যাকে দেশের মানুষের সামনে পরিচিত করে তুলছেন, যাতে ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আনতে সুবিধা হয়।তবে সমীকরণ এতটা সরল নয় বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। সম্প্রতি কিমের বোন কিম ইয়ো জং-এর নামও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে সামনে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তিনিও দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে পিছিয়ে থাকতে রাজি নন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব হলেন কিম ইয়ো জং।
রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেও জানা যায়।ফলে অনেকের মতে, ভবিষ্যতে উত্তরাধিকার প্রশ্নে পরিবারের অন্দরেই জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার তরফে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন।এর মধ্যেই কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অতীতে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে একাধিক গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কন্যার ঘন ঘন জনসমক্ষে উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য কি প্রস্তুত করা হচ্ছে তাঁকে?সাম্প্রতিক দলীয় সভার ছবি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। একই রঙের পোশাক, একই মঞ্চে উপস্থিতি এবং ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতা সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার কোন পথে এগোবে, তা স্পষ্ট হবে সময়ের সঙ্গেই।
